কিরণ মান্না: নন্দীগ্রামে ফের চড়ল রাজনৈতিক পারদ। গোকুলনগরের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি ইন্দুবালা দাসকে সিবিআই গ্রেফতার করায় শুরু হয়েছে হইচই। কে এই ইন্দুবালা? ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় একটি পরিবারে মা ও তার ২ মেয়ে ও মায়ের উপর গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ইন্দুবালা দাস সেই ঘটনার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। বর্তমানে সেই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে।
অভিযোগ, বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ও অসুস্থ বৃদ্ধা ইন্দুবালাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ওই মামলার মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, সিবিআই ইচ্ছাকৃতভাবে আসামিদের গ্রেফতার না করে সাক্ষীদের হয়রানি করছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই অভিযুক্তদের রক্ষা করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে নীরব। শুভেন্দু অধিকারী এখন ওইসব আসামিদেরকে নিয়ে শহিদদের মালা দিচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ইন্দুবালা দাসের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
পাল্টা বিজেপির দাবি, তৃণমূল আইন সম্পর্কে অজ্ঞ। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী,সাক্ষী হওয়ার কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না। আদালত অবমাননার নোটিশের কারণেই সিবিআই তাঁকে নিয়ে গিয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য। বিজেপির আরও দাবি, শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং আগেও ওই পরিবারের পাশে ছিলেন,এখনও আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। একদিকে সাক্ষী গ্রেফতার নিয়ে মানবিক প্রশ্ন, অন্যদিকে আইনি ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামে আবারও রাজনীতি চরমে পৌঁছেছে।
বিজেপি নেতা অশোক করণ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস আইনকানুন একটু ভালোভাবে পড়ুক। ওরা আইনকানুন কিছুই জানে না। কেউ যদি কোনও কেসের সাক্ষী হয়ে থাকে তাহলে তাকে অ্য়ারেস্ট করা হয় না। ওঁকে নোটিস করা হয়েছিল। গ্রামবাংলার মানুষ, বুঝে উঠতে পারেননি। দিনেরদিন কোর্টে পৌঁছতে পারেননি। তাই আদালত অবমাননার দায়ে সিবিআই ওঁকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে। ওঁকে কোর্ট উপস্থিতি হতেই হবে। তৃণমূল কংগ্রেস এখন মশলামুড়ি বিক্রির মতো আসর গরম করছে। শুভেন্দু অধিকারী ওই পারিবারের সঙ্গে আগেও ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অন্যদিকে, তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ গণহত্যা হয়েছিল। ১৪ জন জমিরক্ষা করতে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন। ১৫ তারিখে গোকুলনগরে এক মা ও তার ২ মেয়ে গণধর্ষিত হন। সেই ঘটনার সাক্ষী ইন্দুবালা দাস। যারা ওই মামলার আসামী তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকে। আর গ্রেফতার করা হয়েছে ইন্দুবালাকে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন তিনি নাকি হিন্দু ধর্মের ধারক ও বাহক। তিনি কিছু করছেন না। একজন ৬৪ বছরের মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিআই ইন্দুবালাকে গ্রেফতার করছে। আর যারা আসামী তারা বিজেপি করায় তাদের সিবিআই গ্রেফতার করছে না। ওই সাক্ষী এতটাই অসুস্থ যে তাকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে হচ্ছে। তাকেও সিবিআই ছাড়ছে না। এই ঘটনার তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র নিন্দা করছে। শুভেন্দু বলেন আজ সিবিআই এখানে যাবে, ওখানে যাবে। আর সেই সিবিআই একজন অসুস্থ সাক্ষীকে গ্রেফতার করছে। আমরা এই পরিবারের পাশে আছি।