শেষ মুহূর্তে কোচে বিভ্রাট, যাত্রী-হয়রানি শতাব্দী এক্সপ্রেসে
আনন্দবাজার | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে ধরে নিয়ে যাত্রীদের অনেকেই কামরায় মালপত্র তুলে নির্দিষ্ট আসনে বসেছিলেন। এ দিকে ট্রেন ছাড়ার সময় যখন প্রায় পেরিয়ে যাওয়ার মুখে, তখনই আচমকা রেলের পক্ষ থেকে আর পি এফ কর্মীরা সব কামরায় গিয়ে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নেমে কামরা খালি করার নির্দেশ দিলেন। হুড়মুড় করে মালপত্র নিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়ার পাক্কা দু’ঘণ্টা পরে ওই ট্রেন যাত্রা শুরু করতে পারল।
বুধবার ওই ট্রেনের যাত্রীদের এমনই হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই ট্রেনের একটি কামরায় সমস্যা থাকার কারণে তা বদল করার জন্য নির্দিষ্ট রেকটিকে ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হয় বলে রেল সূত্রের খবর। এই ঘটনায় শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম শ্রেণির ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের হাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীদের বড় অংশ। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নিয়ে প্রচারের বিপুল ঢক্কানিনাদের মধ্যে কেন শতাব্দীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে রেলের এত দায়সারা মনোভাব, সেই প্রশ্নও তুলেছেন যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি যাত্রী-সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন।
এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ হাওড়া স্টেশনের ১১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায় শতব্দী এক্সপ্রেস। সেটি ছাড়ার কথা ছিল দুপুর ২টো ২৫ মিনিটে। তারও মিনিট দশেক পরে, দুপুর ২টো ৩৫ মিনিট নাগাদ রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের নেমে পড়তে বলা হয়। ওই ট্রেনের এক যাত্রী বলেন, ‘‘ট্রেনের কোচে সমস্যা রয়েছে জানার পরে একেবারে শেষ মুহূর্তে তা বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। যাত্রীদের হয়রানি কমাতে ওই কাজ আগেই সেরে রাখা উচিত ছিল।’’
রেল সূত্রের খবর, ওই ট্রেনের সি-১ কামরার সাসপেনশনে ত্রুটি ধরা পড়ায় কোচ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বিষয়টি যাত্রী-সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। সব দিক দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের হয়রানির বিষয়টি দুঃখজনক।’’