শ্রীপঞ্চমীতে পুষ্পপাত্রে আবির, কুমকুমের পাশাপাশি পলাশ, আমের মুকুল বা যবের শিষের উপস্থিতি বলে— ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত’! কবির সেই কথাই যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে এ বার। বাজার ঢুঁড়েও মিলছে না পলাশ-মঞ্জরি। আম বা যবের শিষের অবস্থাও তথৈবচ। জোরালো শীতের জেরে টান পড়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধার জোগানেও। দামের কাঁটায় গোলাপে হাত দেওয়া মুশকিল। চাষি থেকে কৃষিকর্তা সকলেই এর জন্য দায়ী করছেন আবহাওয়াকে। তাঁদের মতে, শীতের দাপটেই এ বার বসন্ত পঞ্চমীপ্রায় পুষ্পহীন।
পঞ্জিকার অঙ্গুলিহেলনে এ বার বছরের যাবতীয় উৎসব নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে এসেছে। সচরাচর ফেব্রুয়ারিতে হয় যে সরস্বতী পুজো, তা এ বার জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে। ঠান্ডার দাপট কিছুটা কমলেও এখনও শীতকাল। তাই বসন্তের ফুল ফুটতে পারছে না, সে ভাবে মুকুল বা শিষেরও দেখা মিলছে না। বৈদিক যুগে সরস্বতীকে শস্যের দেবী হিসাবেই পুজো করা হত, বিদ্যার দেবী হিসাবে তিনি পূজিত হতে শুরু করেন পরে। তাই তাঁর পুজোয় নির্দিষ্ট কিছু শস্য ও ফুলের ব্যবহারের রীতি সুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। কিন্তু বিধি বাম।
বুধবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে শুক্রবারের জন্য কেনাকাটা। কিন্তু বাজারে গিয়ে মাথায় হাত গেরস্ত থেকে স্কুল বা ক্লাবের পুজো আয়োজকদের। আনাজের চড়া দাম। সরস্বতী পুজোয় খিচুড়ি-আলুর দমের ভোগ কিংবা ফ্রায়েড রাইস জোগাড় করতে বিপাকে সবাই। শীতের আনাজের জোগানও কম, ফলে দাম আকাশছোঁয়া।
বিক্রেতাদের আশঙ্কা, আগামী দু’দিনে দাম আরও খানিকটা চড়তে পারে। নদিয়ার উদ্যানপালন আধিকারিক হৃষীকেশ খাঁড়া বলেন, “সরস্বতী পুজো এগিয়ে আসায় সমস্যা হয়েছে। এখনও যা ঠান্ডা রয়েছে তা কুঁড়ি ফোটার অনুকূল নয়। শীত আরও একটু না কমলে তার সম্ভাবনাও কম।”
অনেককেই হয়তো যবের শিষ, পলাশ বা আমের মঞ্জরী ছাড়াই সরস্বতী পুজো করতে হতে পারে। পুরোহিত মশাইয়েরা জানাচ্ছেন, উপকরণ না থাকা মানে বিধিবদ্ধ পুজোয় বিঘ্ন। কিন্তু প্রকৃতির উপরে তো কথা চলে না!