• তিরে রাম-বাম, বিরোধীশূন্য জেলাই লক্ষ্য
    আনন্দবাজার | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • বামেদের ভোটের একটা বড় অংশ ‘রামে’ যাওয়ায় সাম্প্রতিক ভোটগুলিতে পুরুলিয়ায় একের পর এক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। এমনই চর্চা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বুধবার পুরুলিয়ায় ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে সেই তত্ত্বই ফের উস্কে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুড়ার লধুড়কার চণ্ডেশ্বর মাঠের সভা থেকে তাঁর দাবি, সিপিএমের হার্মাদরা জার্সি বদলে বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে আগামী বিধানসভা ভোটে পুরুলিয়ায় ৯-০ আসনে জয়ের ডাক দেন তিনি।

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পুরুলিয়া, পাড়া ও জয়পুর বিধানসভার কিছু বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের বাম-যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন অভিষেক। টানেন বাম শরিক, ফরোয়ার্ড ব্লকের পুরুলিয়ার প্রাক্তন সাংসদ নরহরি মাহাতোর উদাহরণ। নরহরি বর্তমানে জয়পুরের বিজেপি বিধায়ক। পাল্টা সিপিএমের প্রাক্তন ছাত্রনেতা, বর্তমানে বিজেপির জেলার সহ-সভাপতি সৌরভ সিংহের কটাক্ষ, “আমরা ওঁর (অভিষেক) কাছ থেকে তৃণমূলের ইতিহাসটাও জানতে চাই। রেজ্জাক মোল্লা, শেখ শাজাহানেরা তৃণমূলে কোথা থেকে এসেছেন! বক্তব্যেই স্পষ্ট, রাজনৈতিক হতাশায় ভুগছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।”

    সিপিএমের পুরুলিয়ার সম্পাদক প্রদীপ রায়ের দাবি, অতীতের সিপিএমের নেতা-কর্মী হিসাবে যাঁদের নাম নিয়েছেন অভিষেক, তাঁরা কখনও দলের নেতৃত্বে ছিলেন না। তিনি বলেন, “বামেদের দূরবীন দিয়ে দেখতে হবে বলে কটাক্ষ করত তৃণমূল। এখন সেই বামেদের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব ভয় পাচ্ছে।” বিজেপির রাজ্য নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর কথায়, “সাধারণ মানুষ সব সময়েই দেখে নেন, কারা দুর্নীতিপরায়ণ শাসককে হারাতে পারবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকে না। ২০১১ সালে তৃণমূল কাদের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, সাহস থাকলে উনি (অভিষেক) উত্তর দিন।”

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সভার মতো এ দিনও আগামী বিধানসভা ভোটে জেলার সব আসনেই জয়ের বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আগামী ছাব্বিশের ভোটে ৬-৩ নয়, ৫-৪ নয়, ৭-২ নয়, ৯-০ তৃণমূলের পক্ষে করে আবার পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত রাখতে হবে।” সেই প্রসঙ্গে বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম আসন, যেগুলির মধ্যে যথাক্রমে রঘুনাথপুর ও বান্দোয়ান বিধানসভা পড়ে, সেখানে তৃণমূলের ‘লিড’ থাকার কথা বলেন।

    তাঁর দাবি, “এ দিনের জনসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যাঁরা তিন-চার ঘণ্টা ধরে মাঠে অপেক্ষা করেছেন, তাঁরা শুধু আমাদের বক্তব্য শুনতে, আমাদের দেখতে আসেননি। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছেন, আগামী ২৬-এর নির্বাচনে পুরুলিয়াকে সবুজময় করতে হবে।”

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এ দিনের সভায় ভাল জমায়েতের লক্ষ্যে অনেকটাই সফল জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের দাবি, লক্ষাধিক জমায়েত হয়েছিল। ভিড় মাঠ ছাপিয়ে জাতীয় সড়ক পর্যন্ত পৌঁছয়। পুলিশের হিসাবে, ষাট হাজারের মতোলোক হয়েছিল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)