• নিয়ম না মেনে আবাসন নির্মাণ করলে কাজ বন্ধ করা হবে, কলকাতার দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মেয়র ফিরহাদের
    আনন্দবাজার | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • শীতের কলকাতায় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। সে কথা মেনে নিয়ে এবার দূষণ রোধে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বুধবার কলকাতা পুরসভায় আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর শহরের দূষণ নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, পুরসভার দূষণ সংক্রান্ত নিয়ম না মেনে আবাসন নির্মাণের কাজ করলে, তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সবুজ নেট টাঙিয়ে রাখতে হবে, যাতে কোনওভাবেই বায়ুদূষণ না হয়। রাস্তায় যত্রতত্র বালি ফেলে রাখা যাবে না, এক দিনের মধ্যেই বালি রাস্তা থেকে তুলে নিতে হবে।’’ মেয়র আরও বলেন, ‘‘নির্মাণস্থল সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ জল ছড়িয়ে ধুলোবালি ওড়ার সম্ভাবনা কমাতে হবে। এই শর্ত না মানা হলে আমরা কাজ বন্ধের নোটিস ধরাব।’’

    কলকাতা পুরসভায় আয়োজিত বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন পুলিশ ও রেলের পরিকাঠামো নির্মাণকারী সংস্থা রেলওয়ে বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-এর আধিকারিকেরা। বৈঠকেই মেয়র আরভিএনএলের কর্তাদের সঙ্গে তাঁদের কাজের ফলে হওয়া দূষণের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আরভিএনএলের কর্তারা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকগুলি নির্মাণ কাজ চলছে। আমি অনুরোধ করেছি যেখানে তাদের ভাঙাভাঙির কাজ চলছে, সেখানে যেন সবুজ চাদর দিয়ে নেটিং করা হয়। আর ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার বা মিস্ট ক্যানন সিস্টেমের সাহায্যে জল ছেটানো হয়।’’ কলকাতা পুরসভার নিজস্ব কাজের ক্ষেত্রেও মেয়র আরও বেশি সজাগ হতে বলেছেন আধিকারিকদের। পুরসভার একটি বিভাগের সঙ্গে অন্য বিভাগের সমন্বয়ের অভাবের জেরে পুরসভার বহু কাজের বর্জ্য রাস্তায় পড়ে রয়েছে। ওই ধরনের বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকায় গাড়ি চলাচলের সময় ধুলো উড়ে বায়ুদূষণ হচ্ছে। হলে শহরের বাতাসের গুণগতমান খারাপ হচ্ছে বলে মন্তব্যও করেছেন মেয়র।

    কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের মেয়র বলেছেন, ‘‘শহরের যান চলাচলের গতিবেগ যদি একটু বেশি করা যায় তা হলে দূষণ থেকে শহরকে একটু হলেও রক্ষা করা যায়। পাশাপাশি যে সব গাড়ির পরিবেশ ছাড়পত্র শেষ হয়ে গিয়েছে, সেই গাড়িগুলিকে চিহ্নিত করতে বলেছেন মেয়র। কলকাতা শহরের বহু রাস্তায় পুরনো বাস-ট্যাক্সি দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে রয়েছে। ফলে সেখানে নোংরা জমে দূষণ ছড়ানোর সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় মেয়র কলকাতা পুলিশের কাছে দ্রুত এই গাড়িগুলি সরাতে সহায়তা চেয়েছেন। এ ছাড়াও ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার বা মিস্ট ক্যানন এবং ফগ মেশিন দিনরাত চালিয়ে শহরের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)