দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় বিচার প্রক্রিয়া আলিপুর আদালতে আগামী সপ্তাহে, ২৭ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা। মূল অভিযুক্ত কলেজের প্রভাবশালী প্রাক্তনী তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য স্তরের প্রাক্তন নেতা মনোজিৎ মিশ্র এবং তার ঘনিষ্ঠ দুই পড়ুয়া প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং জাইব আহমেদকে হেফাজতে রেখে বিচার চালাতে চায় পুলিশ।
সম্প্রতি আলিপুরের দায়রা বিচারক রাজেশ চক্রবর্তীর আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়ে গিয়েছে। তাতে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ। তার ঘনিষ্ঠ দুই কলেজ ছাত্র এবং কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজছাত্রীর নির্যাতনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িতবলে দাবি। তবে পিনাকী জামিনে রয়েছেন। এই মামলায় গণধর্ষণ, অপহরণ, জোর করে আটকে রাখা ও নির্যাতিতার ছবি তোলার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারায় চার জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয় বলে আদালত সূত্রের খবর। দাবি, মনোজিৎ এবং অন্য দুই ছাত্র যথেষ্ট প্রভাবশালী। বিচার-পর্বে তাই তাঁদের জামিন অভিপ্রেত নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় তাঁর চার্জ গঠনের অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, ২৫ জুন ওই ছাত্রীকে কলেজে ডাকা হয়েছিল। ছাত্র সংসদের ঘরে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মেয়েটিকে ছাত্র সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি পদে বসানোর কথা তোলে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মেলামেশার মতলবে বিয়ের ইচ্ছের কথাও বলে মনোজিৎ। নির্যাতিতা তার প্রস্তাবে সাড়া না-দেওয়ায় তাঁকে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে মনোজিৎ পরিকল্পিত ভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ধর্ষণ চলাকালীন প্রমিত এবং জাইব দরজা বন্ধ করে বাইরে পাহারায় ছিল বলেও তদন্তে প্রকাশ। পুলিশের দাবি, নির্যাতনের সময়ে ওই ছাত্রী অসুস্থ বোধ করলেও নিস্তার পাননি। হাসপাতালে না-নিয়ে গিয়ে দোকান থেকে ‘ইনহেলার’ এনে দেওয়া হয়। তার পরে ফের চলে নির্যাতন।
সরকারি আইনজীবীর দাবি, ২৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে ওই কলেজছাত্রীর উপরে অত্যাচার শুরু হয়েছিল। কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী পিনাকী ওই ঘটনায় বাধা না দিয়ে নির্যাতনের জন্য তাঁর ঘর ছেড়ে দেন। এবং ওই ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন। তবে পিনাকীর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, "মনোজিৎ ও তার ঘনিষ্ঠরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। নিরাপত্তারক্ষীর উপরে চাপ দিয়ে তারা ওঁর ঘর দখল করে বলে তিনি লিখিত বয়ানে জানিয়েছেন।”
আদালত সূত্রের খবর, চার জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্যাতিতা এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার-সহ মোট ৩৭ জন সাক্ষীর তালিকা পেশ করেছে পুলিশ। ওই তালিকায় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ-সহ কলেজের একাধিক পড়ুয়া এবং কলেজ কর্তৃপক্ষও রয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রের খবর, তদন্তে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে মনোজিৎ এবং নির্যাতিতার ডিএনএ যোগ মিলে গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গণধর্ষণের ক্ষেত্রে সমস্ত ফরেন্সিক রিপোর্ট ও বৈদ্যুতিন নথি আদালতে পেশ করা হয়েছে। মনোজিতের আইনজীবী রাজু গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য সে ‘নির্দোষ’ এবং পুরোটাই ‘সাজানো ঘটনা’ বলে দাবি করেন।