পোষ্যকে হাঁটানোর জন্য ক্রীড়াবিদদের দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়াম ছাড়তে বলার অভিযোগ উঠেছিল IAS সঞ্জীব খিরওয়ারের বিরুদ্ধে। তাঁকে লাদাখে বদলি করা হয়েছিল। এ বার সেই আধিকারিককেই দিল্লি পুরসভার (MCD) কমিশনার হিসেবে ফিরিয়ে আনা হলো। এই বদলি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
সঞ্জীব ১৯৯৪ ব্যাচের IAS অফিসার। তিনি অরুণাচল প্রদেশ-গোয়া-মিজ়োরাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ক্যাডার। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গাও একজন IAS অফিসার।
২০২২ সালে ২৬ মে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়াম খেলোয়াড়দের জন্য স্বাভাবিক সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল, স্টেডিয়াম নির্দিষ্ট সময়ের আগে বন্ধ করা হতো, যাতে এই IAS আধিকারিক তাঁর পোষ্যকে নির্বিঘ্নে সেখানে হাঁটাতে পারেন। সেই সময়ে দিল্লির প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি (রেভিনিউ) পদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সংবাদমাধ্যম সেই সময়ে স্টেডিয়ামের এক কোচের বিবৃতি তুলে ধরেছিল। সেখানে ওই কোচ বলেছিলেন, ‘আমরা আগে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অনুশীলন করতাম। কিন্তু আমাদের সন্ধে ৭টার মধ্যে মাঠ ছাড়তে বলা হয়, যাতে ওই আধিকারিক সেখানে তাঁর পোষ্যকে হাঁটাতে পারেন। এর ফলে আমাদের অনুশীলন বিঘ্নিত হচ্ছে।’
সেই সময়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এই IAS অফিসার। তিনি দাবি করেছিলেন, মাঝের মধ্যে তিনি সেখানে নিজের পোষ্যকে হাঁটানোর জন্য নিয়ে যেতেন। কিন্তু সেই কারণে কোনওদিন খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস বন্ধ হয়নি। বিষয়টি সামনে আসার পরেই তড়িঘড়ি দিল্লির তৎকালীন কেজরিওয়াল সরকার দিল্লির সমস্ত সরকারি স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া পরিকাঠামো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এই বিতর্কের পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে তাঁকে বদলি করা হয়েছিল লাদাখে। এ বার সেই সেই IAS অফিসারকেই ফিরিয়ে আনা হলো MCD-র কমিশনার পদে এবং এই পদের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে পাঠানো হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। এই পুরসভা বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সামনেই বাজেটও পেশ করতে চলেছে পুরকর্তৃপক্ষ। তার আগেই এই IAS অফিসারকে নিয়ে আসা হলো নয়া দায়িত্বে।