• হিয়ারিংয়ের সুবাদে ব্লক অফিস যেন মেলার মাঠ
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • মহম্মদ মহসিন, উলুবেড়িয়া

    বিডিও অফিস চত্বরে এমন ভিড় সাধারণত দেখা যায় না। িেকন্তু সার-এর হিয়ারিংয়ে যোগ দিতে মানুষের ভিড়ে গমগম করছে হাওড়া গ্রামীণের ব্লক অফিসগুলি। সেখানেই বিক্রি হচ্ছে ঝালমুড়ি, চা ও জলের বোতল। ব্লক অফিস চত্বরে কার্যত মেলার পরিবেশ। সেই ভিড়ের কোনও বয়সসীমা নেই। সদ্য ভোটার তালিকায় নাম ওঠা তরুণ-তরুণী থেকে থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তি, সবাই হাজির বিডিও অফিসে। তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র।

    তবে বেশিরভাগ জায়গায় শাসকদলের নেতা-কর্মীরাই যে বেশি দাপট দেখাচ্ছেন, তা বলাই বাহুল্য। দু'-একটি ব্লক অফিস চত্বরে অবশ্য বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। কোনও কোনও সহায়তা কেন্দ্রে মানুষকে সাহায্য করার জন্য রীতিমতো কম্পিউটার, প্রিন্টার ও জেরক্স মেশিন নিয়ে বসে রয়েছেন দলের স্বেচ্ছাসেবকরা। কাগজপত্র জোগাড় করার জন্য সেখানেই লাইন পড়ে যাচ্ছে। যাঁরা শুনানিতে যোগ দিতে আসছেন, তাঁদেরকে বেশ খানিকটা সময় ব্লক অফিসে লাইন দিতে হচ্ছে। সেজন্য অনেকের খিদে পেয়ে যাচ্ছে।

    তাঁদের কথা ভেবে ব্লক অফিস চত্বরে অস্থায়ী দোকান খুলে বসেছেন অনেকে। হকাররাও এসে হাজির হয়েছে। ব্লক অফিস চত্বরে দেদার বিকোচ্ছে চা, প্যাকেটজাত জল, চানামুড়ি। উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকের বাইরে কয়েক দিন ধরেই চা ও জল বিক্রি করছেন চণ্ডীচরণ ঘোষ। ব্লকে প্রচুর লোকজন আসায় সেখানে ভালোই চা ও জল বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন চণ্ডীচরণ। উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লকের বাইরে তৃণমূলের সহায়তা কেন্দ্রে দেখা মিলল পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস-সহ একাধিক কাউন্সিলারের। উলুবেড়িয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অতীন্দ্রশেখর প্রামাণিক এবং কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষও সেখানে বসে সবটা তদারকি করছেন।

    কর্মাধ্যক্ষ মুরাদ আলি বললেন, 'আমাদের সহায়তা কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় নথির ফোটোকপি করে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।' শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লক অফিসেও নানা ধরনের খাবারের অস্থায়ী দোকান খোলা হয়েছে। শ্যামপুর দু'নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা নদেবাসী জানা বলেন, 'এই ব্লকটি পুরোপুরি গ্রামীণ এলাকা। গ্রামের গরিব ও প্রান্তিক মানুষরা শুনানিতে যোগ দিতে আসছেন। অনেক আগে থেকেই চলে আসছেন। খিদে পেলে তাঁরা হকারদের কাছ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।'

    এই ব্লকে শাসকদলের পাশাপাশি, কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে একটি সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। শ্যামপুর এলাকার কংগ্রেসের নেতা আতিয়ার রহমান খান জানান, যে দিন থেকে শুনানির কাজ শুরু হয়েছে, সেই দিন থেকে তাঁরা সহায়তা কেন্দ্র খুলেছেন। বাগনানের ব্লকে সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে একমাত্র তৃণমূলের পক্ষ থেকে। বাগনানের বিধায়ক অরুণাভসেন, উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীরকুমার পাঁজা, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তৃণমূল কর্মীরা সহায়তা কেন্দ্র খুলেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)