• বেলচা দিয়ে বোন ও তাঁর প্রেমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, অনার কিলিংয়ের ঘটনায় শোরগোল মোরাদাবাদে
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভিনধর্মী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ছিল মেয়ে। সেই সম্পর্ক মানতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। রাগে প্রেমিক-সহ তরুণীকে বেলচা দিয়ে খুন করে দেহ লোপাটের অভিযোগ উঠল, তরুণীর তিন দাদার বিরুদ্ধে। যুবকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখনও এক অভিযুক্ত পলাতক।

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে ঘটনাটি ঘটেছে। যুবক আরমান চৌধুরী (২৭) সৌদি আরবে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে তিনি সৌদি থেকে মোরাদাবাদে ফেরেন। এরপরে এলাকারই বাসিন্দা কাজল সাইনি (১৯)-র সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর। কাজল নিজে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রামেরই এক প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

    কাজল ও আরমানের সম্পর্ক জানাজানি হতে, তা মেনে নিতে পারেননি ওই তরুণীর তিন দাদা। বেলচা দিয়ে তাঁরা তাঁদের বোন কাজল এবং আরমানকে খুন করে বলে অভিযোগ। এরপরে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁদের দেহ গ্রামেরই একটি মন্দিরের পিছনের জমিতে পুঁতে দেন।

    এ দিকে ছেলে বাড়ি না ফেরায় আরমানের বাবা হানিফ পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কাজলও দু’দিন ধরে নিখোঁজ। এরপরে কাজলের দাদাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে, তাঁরা নিজেদের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেন।

    মোরাদাবাদের পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুভাষচন্দ্র গাঙ্গোয়ার জানান, বুধবার সকালে হানিফের বাবা ছেলে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। সে দিন বিকেলেই কাজলের নিখোঁজ হওয়ার খবর মেলে। তখনই পুলিশ দু’জনের খুনের কথা জানতে পারে। এর পরে পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন আরমানের বাবা। অভিযোগের ভিত্তিতে কাজলের দুই দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখনও একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

    মোরাদাবাদের সিনিয়র পুলিশ সুপার সৎপাল অন্তিল জানান, যে বেলচা দিয়ে খুন করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। কাজলের ধৃত দুই দাদাকে জেরা করে আরেক অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, ভিন ধর্মে প্রেমের সম্পর্কে মত না থাকার কারণেই যুগলকে খুন করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)