• বেগুনি পোশাকে দেখলেই আটক! হেনস্থার শিকার বলে অভিযোগ আশাকর্মীদের একাংশের
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: বেগুনি পোশাকেই তাঁদেরকে দেখতে অভ্যস্থ সবাই। সেটা দেখেই তাঁদেরকে চেনা যায়। কিন্তু সেই পোশাকই যে একদিন তাঁদের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা বোধহয় কল্পনাও করেননি তাঁরা। বুধবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে আশা কর্মীদের আন্দোলন ঠেকাতে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় ধড়পাকড় শুরু করে পুলিশ। রেল স্টেশনে কিংবা বাস স্ট্যান্ডে বেগুনি পোশাক পরা কোনও মহিলাকে দেখলেই তাঁকে আটক করে নিয়েছে পুলিশ।

    তাই পুলিশকে বোকা বানাতে অনেকে নিজেদের ইউনিফর্ম খুলে কলকাতা অভিমুখে রওনা দেন। তা পরেও অবশ্য অনেককে মাঝ পথে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আশাকর্মীদের একাংশ। আশাকর্মীদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, তাঁরা যাতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারেন, তার জন্য তৎপর ছিল পুলিশ। বিভিন্ন জেলা থেকে যাঁরা সল্টলেক অভিমুখে রওনা দিয়েছিলেন, তাঁদেরকে বার বার পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।

    বেগুনি পোশাক দেখলেই তাঁদেরকে ভয় দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। সেই আশঙ্কায় অনেকে ইউনিফর্ম খুলে ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন। তার পরেও কোথাও কোথাও পুলিশের লোকজন ব্যাগের চেন খুলে দেখেছেন। সন্দেহ হলেই তাঁদেরকে মাঝ পথে আটকে দেওয়া হয়েছে। শাসক দলের নেতা-কর্মীরা হুমকি দিয়ে অনেককে আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। অনেককে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেক আশাকর্মী।

    তার মধ্যেই অবশ্য পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অনেকে ইউনিফর্ম লুকিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন কলকাতায়। খানাকুল ১ নম্বর ব্লকের আশকর্মী সুস্মিতা ঘোষের অভিযোগ, তিনি যাতে আন্দোলনে শামিল হতে না পারেন, তার জন্য তাঁকে কার্যত ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। শাসকদলের নেতারাও ফোনে হুমকি দিয়েছেন। তার জন্য তিনি ঘর থেকে বেরোতেই পারেননি। সুস্মিতা বলেন, 'আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। আমরা কোনও জঙ্গি না। পুলিশ যে ভাবে আমাদের আটকেছে, সেটা খুবই দুর্ভাগ্যের। তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)