• নদীতে আর্থমুভার নামিয়ে বালি লুট, তদন্তে সেচ দপ্তর
    এই সময় | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: নকশালবাড়ির বিজলি নদীতে রীতিমতো আর্থমুভার নামিয়ে চুরি করা হচ্ছে বালি। শুধু বালি চুরি নয়, এর পেছনে বালি মাফিয়াদের জমি দখলের ছক রয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিএম দার্জিলিং জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, নকশালবাড়ির বাসিন্দা গৌতম ঘোষ। তিনি বলেন, 'তৃণমূল নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে নদী থেকে বালি-পাথর তুলছে। সরকারি অনুমতি ছাড়া ট্র্যাক্টর, আর্থমুভার নামিয়ে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে।'

    বালি চুরি করতে গিয়ে এক কিলোমিটারের বেশি জায়গা খনন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সেচ দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। উপপ্রধান রঞ্জন চিকবড়াইক বলেন, 'কে বা কারা এ ভাবে নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, জানা নেই। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে এই ঘটনায় দায়ভার যাতে শাসকদলের ঘাড়ে না-চাপে সেই কারণে বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত অফিসে বৈঠক ডাকা হয়েছে।'

    মিরিকের কাছে বালাসন থেকে উৎপত্তি হয়েছে বিজলি নদী। মিশেছে শিলিগুড়ি মহকুমার চেংগা নদীতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'বছরের অন্য সময়ে নদীতে এক ফোঁটা জল না থাকলেও বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠে। বর্ষাকালে খরস্রোতা নদীর জলে আশপাশ এলাকার মানুষের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীতে আর্থমুভার নামিয়ে যে ভাবে বালি তোলা হচ্ছে তাতে গতিপথ পরিবর্তন হলে তীরবর্তী গ্রামের আরও ক্ষতি হতে পারে। নদী সংকীর্ণ করে দু'পাশে বালির বাঁধ দেওয়া হয়েছে, নদী চরের জমি যাতে পরে প্লট করে বিক্রি করা যায়।'

    বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠতেই নকশালবাড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, ব্লক অফিস এবং দার্জিলিং জেলা সেচ দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ব্লক প্রশাসনের তরফেও ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেচ দপ্তরের দার্জিলিং জেলার এগজ়িকিউটিভইঞ্জিনিয়ার শ্যামলকুমার মণ্ডল বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনও অবস্থাতেই এটা চলতে দেওয়া যাবে না। পুলিশকে লিখিত ভাবে জানাব।'

  • Link to this news (এই সময়)