নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি: বিষয়, রাজধানীর পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণ। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে দিল্লি পুরনিগম ডগ শেল্টার তৈরিতে বরাদ্দ করেছে ১০ কোটি টাকা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মোট তিনটি শেল্টার তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে দিল্লি পুরনিগম। আর সেই খাতেই এই খরচ। কুকুরদের হাত থেকে পথ চলতি মানুষকে নিরাপত্তা দিতেই এই উদ্যোগ।ইতিমধ্যেই দিল্লির দ্বারকার সেক্টর ২৯-এ আড়াই একর জমিতে একটি শেল্টার তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরনিগম সূত্রে খবর, এই শেল্টারে মোট ১৫০০টি কুকুরকে রাখা যাবে। এছাড়়াও, বিজবাসন এবং বেলা রোডে আরও দুটি শেল্টার তৈরির প্রস্তাব পুরনিগমের কাছে দেওয়া হয়েছে। যাতে অতিরিক্ত কুকুরদেরও আশ্রয় দেওয়া যায়। শুধু ডগ শেল্টার গড়ে তোলাই নয় পথকুকুরদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি পুরনিগম। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে রাস্তার কুকুরদের শরীরে মাইক্রোচিপ বসানো এবং নিয়মিত টিকাকরণের জন্য আরও প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পৃথকভাবে বরাদ্দ করার ভাবনা চলছে।গত বছর আগষ্ট মাসে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি-এনসিআরের সব পথ কুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এমনকী এই কাজে কেউ বাধা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। সেসময় বহু পশুপ্রেমীই রাস্তা থেকে সব কুকুরকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশে ক্ষুব্ধ হন। আন্দোলনে সরবও হয়েছিলেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পশু অধিকার কর্মীরাও প্রতিবাদ জানান। এমনকী দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের কাছে বিক্ষোভ করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্থগিত রেখে, পথকুকুরদের বন্ধ্যাত্বকরণে জোর দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এছাড়া কুকুরদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বন্ধ্যাত্বকরণ এবং প্রতিষেধক দেওয়ার পর যেখান থেকে কুকুরদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে দিল্লি পুরনিগমের ডগ শেল্টার তৈরির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।