• প্রচার সত্ত্বেও ঠেকানো গেল না, ফের কাটোয়ায় তীরে গাঙ্গেয় ডলফিনের দেহ উদ্ধার
    বর্তমান | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় একের পর এক গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। প্রচার সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না জাতীয় জলজ প্রাণীর মৃত্যু। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের বাবলাডাঙা চৌধুরীপাড়াতে একটি গাছে গাঙ্গেয় ডলফিনের মুখ কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করল বনদপ্তর। ডলফিন শাবকের মুখ কেটে টিনের মধ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাচারকারীরা তেল সংগ্রহের জন্যই এইরকম করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে বনদপ্তর। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, তেল সংগ্রহের জন্যই এটা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা পুলিশের সাহায্য নিয়ে এটার তদন্ত করব। এদিন কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপের বাবলাডাঙাতে ভাগীরথীর তীরে একটি বাবলাগাছেই টাঙানো ছিল ডলফিন শাবকের মৃতদেহ। দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মুখ নৃশংসভাবে কেটে টিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তেল সংগ্রহের জন্যই কে বা কারা এমন হত্যাকাণ্ড চালাল তা নিয়ে তদন্ত করার দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবেশ কর্মীরা। কাটোয়ায় ভাগীরথীতে একের পর ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার করছে বনদপ্তর। প্রচার সত্ত্বেও বিষয়টি ঠেকানো যাচ্ছে না। কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিমি এলাকা জুড়ে ডলফিনের বিচরণ ক্ষেত্র। কয়েক বছর আগে কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তুলেছিল রাজ্যে বনদপ্তর। ডলফিন নিয়ে গবেষণাও চালাচ্ছে বনদপ্তর। তবুও ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। এই এলাকায় ৩২-৩৫টির বেশি গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে। ডলফিনের মৃত্যু রুখতে ও জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়ে রাজ্য বনদপ্তরের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে ওয়ার্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফাণ্ড (ডব্লু ডব্লু এফ- ভারত শাখা) সুন্দরবন প্রোগ্রামের গবেষকরা। তাঁরা এর আগে ভাগীরথীতে লঞ্চে করে নামখানা থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত যান। তারপর আবার তাঁরা কাটোয়ার শাঁখাই হয়ে ফিরে যান। গবেষকদের মধ্যে ছিলেন ওয়ার্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফাণ্ড (ডব্লু ডব্লু এফ-ভারত শাখা) সুন্দরবন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অনুরাগ দণ্ড, ডলফিন বিশেষজ্ঞ ডঃ শাহানাওয়াজ, গবেষক মৃদুলকান্তি কর-সহ বিশিষ্ট জনেরা। তাঁরা ফারাক্কা পর্যন্ত ডলফিনের গতিবিধির উপর নজরদারি চালান। পাশাপাশি ডলফিনের আচরণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেন। ডলফিন সুরক্ষায় ভাগীরথী কতটা নিরাপদ তাও খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পাশাপাশি পিঙ্গার যন্ত্র নিয়েও গবেষণা চালানো হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)