জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চে SIR প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বললেন, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি কোনওদিন ছিল না SIR-এ। একমাত্র বাংলায় হচ্ছে, আর কোথাও হচ্ছে না। খসড়া তালিকা বেরনোর পরেও'! সঙ্গে বার্তা, 'যারা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, পাননি, যাবেন। দরকার হলে অথারাইড পার্সনকে পাঠাতে পারেন'।
শুরু হয়ে গেল ৪৯ তম কলকাতা বইমেলা। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিবছরের মতোও এবার বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কবে? আজ বুধবার। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, 'SIR চলছে। একশো দশ জনের মতো মানুষ মারা গিয়েছে। আমরা যেন মানুষের সেই হয়রানি কথাটা মনে রাখি। প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা করে লাইন দিতে হচ্ছে'। তাঁর কথায়, 'ধরুন আমি মমতা ব্যানার্জি, বাংলা লিখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যস বাদ! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ টেগোর, ব্য়াপারটা তাই। চ্যাটার্জী চট্টোপাধ্যায় লেখে, মুখার্জী মুখোপাধ্যায় লেখে। খুব দোষ হয়ে গিয়েছে। একজনকে বলছে, পাঁচজন ছেলেমেয়ের একই বাবা-মা হয় কী করে, কী করে বলি বলুন তো। এখন না হয় হাম দো হামারা দো হোতা হ্যায়, পেহেল তো নেহি থা'।
এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর ৯ বই প্রকাশিত হতে চলেছে। মমতা বলেন, 'আমি ছোটখাট লিখি। আমি তো জ্ঞানী গুনি লোক নই। নিজেকে মনে করি Less Important Person। ওই যতটুকু পারি'! জানান, 'মোটামুটি আমার ১৫৩ বই বেরিয়েছি এরমধ্যে। এবার হয়তো ৯ বেরোবে। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনের কথা, সবটা বলিনি এখনও। একটু একটু লেখা লিখেছি। SIR-র যে হয়রানি চলছে, যেহেতু সাল ছাব্বিশ, ছাব্বিশে ছাব্বিশটা কবিতা, আমি হেলিতে যেতে লিখে দিয়েছি ২-৩ দিনের মধ্যে। ওটা SIR হিসেবে বেরোবে। সংখ্যাটা ১৬২ হবে। আমরা একমাত্র ইনকাম বলে বইয়ের রয়্যালটি'।
মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, 'বইয়ের কোনও ভৌগলিক সীমারেখা নেই। বই হচ্ছে হচ্ছে সবার প্রাণ, সবার মান, সবার সম্মান। তার কারণও আছে। আমরা এগিয়ে চলেছি যুগের সঙ্গ খাপ খাইয়ে। হাতে এসেছে গিয়েছে স্মার্টফোন, হাতে এসে গিয়েছে কম্পিউটার। হাতে এসেছে এআই। বইয়ের দিকে ঝোঁকটা কি একটু কমে যাচ্ছে? যাঁরা বইপ্রেমী, তাঁদের কিন্তু কমছে না। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি। আমি অবশ্য লেখার সময় পাই না। যতটুকু সময় পায়, ওই যখন হেলিতে করে জেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়, আমি লিখি। এবং প্লেনেও যদি কোথাও যাই, সেইসময়ে আমি বই লিখি। আমি যদি কম্পিউটারে টাইপ করি মন পোষায় না, কিছু আর্জেন্ট কাজ আমাকে রেকর্ড রেখে দিতে হয়। কিন্তু যে বইগুলি বেরোয়, সেগুলি হাতে লিখি। এই অভ্যাসটা এখনও যায়নি'।