• 'যে কোম্পানিটাই নেই, তার থেকে ১৩.৫ কোটি টাকা ঋণ কীভাবে'? I-PAC-কাণ্ডে নয়া মোড়!
    ২৪ ঘন্টা | ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের খবরে 'ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' (Indian Political Action Committee)! একটু চমকে উঠলেন? না, চমকাবার কিছু নেই, এই নামটি বললেই চিনববেন-- 'আই-প্যাক' (I-PAC)! হ্যাঁ, সম্প্রতি আই-প্যাক নিয়ে একটা টানা পর্ব চলছে বাংলায়। এবার সামনে এল তাদের একটি ঋণের প্রসঙ্গ (unsecured loan)! বিরাট পরিমাণ সেটা--- সাড়ে ১৩ কোটি! ২০২১ সালে নিয়েছিল তারা বলে খবর! যে সংস্থা থেকে নিয়েছিল, সেটি রোহতকের একটি ফার্ম (Rohtak-based firm) বলে দাবি। কিন্তু একটি খবরের সূত্র জানাচ্ছে, এই ধরনের কোনও ফার্মের অস্তিত্বই নেই! 

    সংস্থাই নেই, তো ঋণ কী করে?

    প্রশ্ন উঠছে, যে নামে কোনও সংস্থাই নেই, সেখান থেকে আইপ্যাক ১৩.৫ কোটি টাকা ঋণ নিল কী ভাবে? আইপ্যাকের এই ঋণ নেওয়ার দাবি নিয়েই উঠছে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানির ফাইলিং থেকে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বরের নথিতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আইপ্যাকের তরফে জানানো হয়েছিল, 'রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া (পি) লিমিটেড' নামে একটি সংস্থা থেকে তারা বন্ধকহীন বা কোনও মর্টগেজ ছাড়াই ঋণ পেয়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানির নথিতে ওই নামে কোনও সংস্থার অস্তিত্বই নেই। তা হলে? শুধু তাই-ই নয়, ওই সংস্থার ঠিকানা হিসেবে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানে গিয়ে এমন কোনও কোম্পানির হদিস মেলেনি!

    কাছাকাছি নাম... কিন্তু...

    যে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, তাদের বয়ান অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানির নথি থেকে দেখা গিয়েছে, আইপ্যাক যে সংস্থার থেকে ঋণ পেয়েছে বলে দাবি করেছিল, তার কাছাকাছি নামের একটি কোম্পানি ছিল। ২০১৩ সালের অক্টোবরে 'রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড' নামে একটি সংস্থা তৈরি হয়েছিল বটে। কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ অগস্ট সেই সংস্থার নাম বাদ পড়েছিল। অর্থাৎ, ঋণের বিষয়টি আইপ্যাক দেখানোর তিন বছর আগেই তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছিল ওই সংস্থার।

    ঋণশোধও?

    খবর যে, ১ কোটি টাকা নাকি ফেরতও দিয়েছিল আইপ্যাক! ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুন আরও একটি ডিক্ল্যারেশনে আইপ্যাক জানিয়েছিল যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ঋণের ১ কোটি টাকা মিটিয়ে দিয়েছে তারা। বাকি পড়ে আছে ১২.৫ কোটি টাকা। যে সংস্থার ঠিকানা দেখানো হয়েছে, ‘তৃতীয় তল, অশোকা প্লাজা, দিল্লি রোড, রোহতক রোড, হরিয়ানা’!

    আইপ্যাক কী বলল?

    যদিও বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের তরফে আপাতত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নাকি আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনকে ইমেল করা হয়েছিল। করা হয়েছিল ফোনও। কিন্তু তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বলে দাবি ওই সংবাদসংস্থার। ফরিদাবাদে আইপ্যাকের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট পুনম চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাঁর এক সহযোগী দাবি করেছেন, যে প্রশ্ন করা হয়েছে, তা আইপ্যাকের কর্ণধারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, উনি নিজেই জবাব দেবেন বলে দাবি করা হয়েছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)