• সকলের নজর কাড়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের ‘অর্কিড হাউস’
    আজকাল | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: বাগান, বাড়ির ছাদ বা উঠোন। সর্বত্রই অর্কিড। টানা ১৩ বছরের লাগাতার চেষ্টা। ফল দিয়েছে। দুর্দান্ত ফুল ফুটিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পোলবার আলিম মণ্ডল। পেশায় তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি অর্কিড ভালবাসেন। তাই প্রায় ১৩ বছর ধরে নিজের বাড়িতেই অর্কিড চাষ করছেন তিনি। বাড়ির ছাদ, উঠোন ও বাগানে অর্কিড চাষ করে গিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক। 

    হুগলির পোলবার কাশ্বরা ইয়াসিন মণ্ডল শিক্ষা নিকেতনের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২১ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। অবসরের আগে থেকেই তিনি অর্কিডের বাগান করেন। সারা বছর তার বাগানে ফুটে থাকে রংবেরঙের রঙিন অর্কিড। যা দেখতে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসেন শিক্ষকের বালিডাঙ্গার বাড়িতে। লোকমুখে প্রচলিত হতে হতে বাড়িটারই নাম বর্তমানে ‘অর্কিড হাউস’। প্রায় একশো রকমের অর্কিড রয়েছে বাগানে। তবে অধিকাংশ অর্কিড গাছ রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়। কাঠ, নারকেলের খোলা বা বিভিন্ন টবের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যে অর্কিড। সূর্যের উত্তাপ থেকে গাছগুলিকে রক্ষা করার জন্য পলি হাউসেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। 

    আলিম জানিয়েছেন, ২০১২ সাল থেকে নিজের বাড়িতেই অর্কিডের বাগান শুরু করেন। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে গাছগুলিকে তিনি নিজের সন্তানের মত সযত্নে লালন-পালন করছেন। কেরল, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নার্সারি থেকে তিনি এই অর্কিড গাছ সংগ্রহ করেছেন। ডেন্টোরিয়াম, ক্যাটিলিয়া, রিক্সোটাইলিস্ট, ভেন্ডা, নোবেলি, ফেয়াস, অ্যারিড-সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে ওই বাগানে। এ বছর খুবই ভাল ফুল পেয়েছেন তিনি। আর এই ফুল দেখলে সকলেই অবাক হচ্ছেন। তবে তাঁর এই উদ্যোগে কোনও ব্যবসায়িক লক্ষ্য নেই। কখনও তিনি ফুল বা গাছ বিক্রি করেন না। 

    বৃহস্পতিবার আলিম বাবুর অর্কিডের বাগান দেখতে ব্যারাকপুর থেকে এসেছিলেন আশিষ নাথ, করুণা ভৌমিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরে ইচ্ছে ছিল এই বাগান দেখার। দেখে মন ভরে গেছে। এত সুন্দর। এত যত্ন করে রাখা গাছ আগে কোনও দিন দেখেননি। প্রায় ২৫-৩০ রকমের ফুল দেখেছেন। অনেক জায়গায় তাঁরা ঘুরেছেন। কিন্তু এত সুন্দর বাগান তাঁদের নজরে পড়েনি, তাও আবার শুধুই অর্কিডের। এক কথায় অসাধারণ। 

    আলিম বাবু বলেছেন, এটা তাঁর শখের বাগান। বাচ্চাদের মত করে তিনি এই গাছগুলোকে মানুষ করেছেন। তাঁর কাছে যত রকমের অর্কিড আছে, পশ্চিমবাংলার অনেকের কাছেই নেই। সারা বছর ধরে তাঁর এই বাগানে ফুল ফোটে। থাইল্যান্ড থেকে আনা গাছ আছে। বিভিন্ন নার্সারির গাছ কিনে তিনি তৈরি করেছেন। প্রায় কয়েকশো রকমের অর্কিড রয়েছে তাঁর কাছে। প্রায় ১২ বছর ধরে অর্কিড গাছ তৈরি করছেন। কয়েক লক্ষ টাকার গাছ কিনেছেন। গাছের পরিচর্যার জন্য প্রতি মাসে তাঁর পাঁচ থেকে ছয় হাজার খরচ হয়। এই অর্কিড আজও দুর্মূল্য। সহজে পাওয়া যায় না। তাই এই ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশী।
  • Link to this news (আজকাল)