ইটাহারে SIR শুনানি ঘিরে তুলকালাম, এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনায় অগ্নিগর্ভ এলাকা
আজ তক | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার এলাকা। শুনানির নোটিশ নিয়ে আতঙ্কে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে অভিযোগ তুলে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইটাহার হাইস্কুল চত্বর। ভাঙচুরের পাশাপাশি আক্রান্ত হন সরকারি আধিকারিকরাও। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় হিয়ারিং ক্যাম্প।
এদিন সকালে ইটাহারের মুরালীপুকুর গ্রামের বাসিন্দা চান্দু সরকার (৫১)-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির কাছেই একটি আমবাগান থেকে। পরিবারের দাবি, চান্দু সরকারের স্ত্রী জিন্নাতুন খাতুনের নামে হিয়ারিংয়ের নোটিশ আসার পর থেকেই তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে ইটাহার হাইস্কুলে শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ লাঠিসোঁটা হাতে একদল উত্তেজিত জনতা ইটাহার হাইস্কুলে চড়াও হয়। সেই সময় স্কুল চত্বরে ভোটার তালিকা সংশোধনী সংক্রান্ত শুনানি চলছিল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইটাহার অঞ্চলের কয়েকজন আধিকারিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, ক্ষোভের মুখে পড়েন পতিরাজপুর এলাকার আধিকারিকরা। অভিযোগ, এক এআরও-র মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার ও বেঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। হিয়ারিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক মহিলা এআরও। স্কুল চলাকালীন এই তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রায়গঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফের শুনানি শুরু হয়। অন্য দিকে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময় ইটাহার চৌরাস্তা মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হুসেন ও তাঁর অনুগামীরা। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।