• বেলডাঙা কাণ্ডের মূল চক্রী গ্রেফতার! লুকিয়েছিল পড়শি রাজ্যে...
    ২৪ ঘন্টা | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল  বেলডাঙ্গা কাণ্ডে পুলিসের জালে মওলানা শওকত আলী আলবানি।

    দূর থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট করে অশান্তিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করল মুর্শিদাবাদ পুলিসের সাইবার শাখা। আলবানি দুদিনের একদিনও কোনও ঘটনাস্থলেই ছিল না। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে তার করা সোস্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকেই উস্কানি ইন্ধন পেয়েছে। সেই অভিযোগে গ্রেফতার।

    ফোনে দাবি করেছিল ঝাড়খন্ডে আছে। পুলিসের দাবি মুর্শিদাবাদে একটি গোপন ডেরায় লুকিয়ে ছিল।

    মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের সাইবার ক্রাইম থানা এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্মীয় উস্কানি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃত ব্যক্তির নাম শৌকত আলি আলবেনি।

    পুলিস সূত্রে জানা গেছে, ধৃত শওকত আলি আলবেনি বেলডাঙা থানার অন্তর্গত জালালপুরের মেদেরধারের বাসিন্দা। তার বাবার নাম হায়দার আলি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের একটি বিশেষ দল একটি গোপন ডেরায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

    মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি ধারা

    মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলা সাইবার ক্রাইম থানায় ধৃতের বিরুদ্ধে ৩৬/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। শৌকত আলির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর অত্যন্ত কড়া কিছু ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে:

    ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা বা উস্কানি দেওয়া।

    ধারা ২৯৯: ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে অপমান করা।

    ধারা ৩০২: ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া।

    ধারা ৩৫৩(১): গুজব ছড়ানো বা জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোনো বিবৃতি দেওয়া।

    ধারা ৩(৫): অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা সাধারণ অভিপ্রায়।

    গ্রেফতারের বিবরণ

    বেশ কিছুদিন ধরেই সাইবার স্পেসে আপত্তিকর বা উস্কানিমূলক কার্যকলাপের জন্য পুলিসের নজরদারিতে ছিল এই অভিযুক্ত। তদন্তকারী অফিসারদের কাছে খবর ছিল যে শওকত একটি গোপন স্থানে আত্মগোপন করে আছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আজ সন্ধ্যায় অতর্কিত হানা দেয় পুলিশ এবং তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ তার অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা কোথায়? পুলিস কেন নীরব দর্শক হয়ে থাকল? রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। 

    কী চলছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়?

    সকাল প্রায় ৮ টা থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে  টানা অবরোধ চলছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। বেলডাঙার মহেশপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধের জেরে বিশাল জানজট। বহরমপুর থেকে কৃষ্ণনগরগামী ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত রুদ্ধ। তৈরি হয় বিশাল জানজট। পুলিস স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু অবরোধ তুলতে নারাজ হয়নি স্থানীয়রা। বেলডাঙা মহেশপুর আন্ডারপাসের কাছে রেল অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। আটকে পড়ে রাণাঘাট থেকে লালগোলা গামী ট্রেন। পলাশী স্টেশনে থমকে কলকাতা থেকে লালগোলাগামী হাজারদুয়ারী এক্সপ্রেস। সুজাপুরে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের  বাড়িতে যাচ্ছেন  অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অন্যদিকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এখনও চলছে অবরোধ। চলছে ট্রেন অবরোধও।

    আদালত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

    পুলিস জানিয়েছে, শুক্রবার ধৃত শওকত আলি আলবেনিকে মাননীয় আদালতের (LD Court) সামনে পেশ করা হবে। মামলার গুরুত্ব এবং অপরাধের জাল কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিসের পক্ষ থেকে তাকে ৮ দিনের পুলিস হেফাজত (PC) বা রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

    মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের এই তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া বা সাইবার জগতের মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না। অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জেরা করলে এই চক্রের সাথে আর কেউ যুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)