যুবভারতীকাণ্ডে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি? টাকা ফেরত দেবেন কি শতদ্রু দত্ত? এমন নানা প্রশ্ন এখন আদালতে বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিধাননগর মহকুমা আদালতে। কিন্তু এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক না-আসায় শুনানির দিন পিছিয়ে যায়। তবে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদনে আপত্তি জানান শতদ্রুর আইনজীবী।
যুবভারতীর মাঠে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন দর্শকেরা। কিন্তু অনুষ্ঠানের পুরো সময়টায় ফুটবল তারকাকে ঘিরে ছিলেন আয়োজক এবং রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা। দর্শকাসন থেকে তাঁকে দেখতে পাননি অনুগামীরা। এর পরে মেসি মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে ক্রোধে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। মাঠে ভাঙচুর করা হয় চেয়ার। ওই দিনই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রুকে। দাবি ওঠে, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ারও।
শুধু সাধারণ দর্শকেরা নন, রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমারও দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সওয়াল করেন। শতদ্রুকে গ্রেফতারির পরই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। টাকা ফেরত দেওয়া না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ।
বৃহস্পতিবার টাকা ফেরত মামলা শুনানি ছিল। তবে পুলিশের আবেদনের বিরোধিতা করেন শতদ্রুর আইনজীবী সৌম্যদীপ রাহা। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে সংবিধানিক-বিরোধী। তাঁর দাবি, যুবভারতীর মামলায় এখনও তদন্ত চলছে। পুলিশ চার্জশিট দেয়নি। তাঁর মক্কেলকে ‘দোষী সাব্যস্ত’ করা হয়নি। তার আগেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়’ করে টিকিটের টাকা বিলির কথা বলা হচ্ছে। টিকিট বিক্রয় বৈধ ছিল। তাই সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ বেআইনি ভাবে দাগিয়ে দেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার মামলা খারিজের আবেদন জানিয়েছেন শতদ্রুর আইনজীবী। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি যুবভারতীকাণ্ডের ৩৭ দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী জামিন পান শতদ্রু। ১০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।