এবার কর্ণাটকেও সরকারের লেখা ভাষণ পাঠ করলেন না রাজ্যপাল, সংবিধান লঙ্ঘন, তোপ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
বেঙ্গালুরু: তামিলনাড়ুর পর এবার কর্ণাটক। বিরোধী শাসিত এই দক্ষিণী রাজ্যেও সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। কর্ণাটক বিধানসভার যৌথ অধিবেশনে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বক্তব্য পড়লেনই না রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। মাত্র তিনটি বাক্যে ভাষণ শেষ করে বেরিয়ে যান তিনি। এই ঘটনার পরেই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। তাঁর অভিযোগ, সংবিধান ভেঙেছেন রাজ্যপাল। আজ একটা কালো দিন।প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যের লিখে দেওয়ার বক্তব্য পাঠ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু, এদিন সময়মতোই বিধানসভায় চলে আসেন গেহলট। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, এই যৌথ অধিবেশনে সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। এখানে বক্তব্য রাখতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার সরকার রাজ্যে আর্থিক ও সামজিক উন্নয়নের গতি দ্বিগুণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বলেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু, রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ১২০টি পয়েন্টের একটিও পড়েননি তিনি। রাজ্যের দুই মন্ত্রী এইচ কে পাতিল ও প্রিয়ঙ্ক খাড়্গে তাঁকে সমগ্র ভাষণ শেষ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু, তাতে কর্ণপাত করেননি রাজ্যপাল। এরপরই স্লোগান দিতে দিতে রাজ্যপালের পথ আটকানোর অভিযোগ ওঠে আইনমন্ত্রী এইচ কে পাতিল সহ একাধিক কংগ্রেস জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এরপরই সিদ্ধারামাইয়া বলেন, সংবিধানের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন রাজ্যপাল। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতের পুতুলের মতো আচরণ করছেন। উল্লেখ্য, ইউপিএ আমলের মনরেগাকে বদলে নতুন প্রকল্প শুরু করেছে মোদি সরকার। সেই নিয়ে সমালোচনা করে বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ ছিল এদিনের রাজ্যপালের ভাষণে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আরও দুই রাজ্যেও একই ধরনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল আরএন রবি। অন্যদিকে, কেরলের সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণের বেশ কিছু অংশ ঊহ্য রেখে দেন রাজ্যপাল।