নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশন যত এগিয়ে আসছে, সরকার-বিরোধীর মধ্যে ততই বাড়ছে ‘জি রাম জি’ আইন নিয়ে চাপানউতোর। এই আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনমত তৈরি করছে কংগ্রেস। পালটা কেন্দ্রীয় এই আইনের সপক্ষে সওয়াল করতে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে রাজ্যে রাজ্যে পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এই আবহে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে জওহর ভবনে ‘মনরেগা বাঁচাও’ আন্দোলনে মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের দাবিতে যেভাবে তিন কালা কানুন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোদিজি, একইভাবে এই আইনও বাতিল করিয়েই ছাড়ব। তার জন্য কংগ্রেস একা বললে কিছু হবে না। ১০০ দিনের কাজের গরিব শ্রমিকদেরও একজোট হতে হবে।’ শ্রমিকদের মন জয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মঞ্চে খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিকের রূপ ধরতে বৃহস্পতিবার রাহুল এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে—উভয়েই মাথায় বেঁধে নেন চাষির গামছা। কাঁধে তুলে নিলেন গাঁইতি। সেই দৃশ্য দেখে দেদার হাততালি দেন সভায় উপস্থিত শ্রমিকরা। মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, ‘শুধু স্লোগানে কিছু হবে না। রাস্তায় নেমে প্রকৃত প্রতিবাদে সরব হতে হবে। তবেই আইন বাতিল করতে বাধ্য হবে মোদি সরকার।’ কংগ্রেস নেতাদের দাবি উড়িয়ে কোনো পরিস্থিতিতে আইন বাতিল হবে না বলে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন শিবরাজ সিং চৌহান। কর্ণাটকের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। এখন নতুন আইনের বিরোধিতা করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। চৌহান বলেন, ‘কাজ কমবে না। অধিকারও কাড়া হচ্ছে না। নতুন আইনে কোথায় কী কাজ হবে, তা ঠিক করবে গ্রাম পঞ্চায়েত। রাজ্যের সরকার নয়। আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ হবে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ফলে কংগ্রেসের কথায় কান দেবেন না। মোদি সরকারের বিকশিত ভারতে নজর দিন।’