ভারত বিরোধিতায় বিশ্বকাপ বয়কট! নির্বাসনের মুখে বাংলাদেশ
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশ ‘আউট’, স্কটল্যান্ড ‘ইন’! এই সম্ভাবনা বৃহস্পতিবার আরও জোরালো হল ইউনুস সরকারের অনড় অবস্থানে। ভারত বিরোধিতা জিইয়ে রেখে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই সিদ্ধান্তের জেরে তারা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি বেশ কয়েক বছরের জন্য নির্বাসিত হওয়ারও সম্ভাবনা প্রবল। অন্তত তেমনই খবর আইসিসি সূত্রে।বুধবার আইসিসি’র পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। সেই মতো বৃহস্পতিবার ক্রিকেটার ও বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ভারতে খেলতে যাব না। প্রথম থেকেই এটা জানিয়েছি। ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে ভারতে নিরাপদ নয়, সেটা মুস্তাফিজুরের ঘটনায় স্পষ্ট। মাত্র একজন ক্রিকেটারকে যারা নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কী করে গোটা দলকে নিরাপদে রাখবে? তাই আইসিসি’র কাছে বার বার ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। কোনও সুরাহা মেলেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। বাধ্য হয়েই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। আমরা এখনও আশাবাদী যে, আইসিসি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আমাদের একটাই দাবি, বিশ্বকাপে খেলতে দেওয়া হোক। তবে ভারতে নয়, আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।’বিশ্বকাপ বয়কটের ফল শুধু জরিমানা-নির্বাসনে শেষ হবে না। আন্তর্জাতিক স্পনসরদের একটি বড়ো অংশও বাংলাদেশের থেকে মুখ ফেরাবে। ভবিষ্যতে আইসিসি’র লভ্যাংশ থেকেও বঞ্চিত হবে বিসিবি। ফলে চরম আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হবে পড়শি দেশের ক্রিকেট। আসিফ নজরুলের অবশ্য তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। তিনি ইউনুসের আজ্ঞাবহ মাত্র। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মুস্তাফিজুর ইস্যুকে সামনে রেখে প্রবল ভারত বিরোধিতার বিষ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। সেজন্য বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দু’বার ভাবেননি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তারা জানত, ক্রীড়াসূচি প্রকাশের পর সেটি পরিবর্তনের দাবি জানালে আইসিসি’র পক্ষে তা মানা অসম্ভব। আর সেটাকেই হাতিয়ার করেছে ঢাকা। ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছে। বলা ভালো, রাজনীতির কারবারিরা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটার ও বোর্ড কর্তাদের উপর। বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তামিম ইকবাল যখন কলকাতা ও মুম্বইয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল ‘ভারতের এজেন্ট’। বিষয়টি নিয়ে গৃহযুদ্ধ লেগে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ইউনুস সরকার বুঝে গিয়েছিল, ধিক ধিক করে জ্বলতে থাকা আগুন এখনই নিভিয়ে ফেলা জরুরি। নাহলে তা দাবানলের আকার নেবে। আর সেক্ষেত্রে প্রবল ভারত বিরোধিতার জিগিরই হয়েছে একমাত্র হাতিয়ার।এপ্রসঙ্গে বিসিসিআইয়ের এক প্রাক্তন কর্তার মন্তব্য, ‘জগমোহন ডালমিয়ার সাহায্য ছাড়া ২০০২ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্টেটাসই পেত না। এখন ওরা ফোঁস করতে শিখেছে। তাতে ইন্ধন জোগাচ্ছিল পাকিস্তান। মজার ব্যাপার হল, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই আগে কেটে পড়েছে পিসিবি। আর পাঁকে পড়ল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ না খেললে ওদের অবস্থা পাকিস্তানের থেকেও খারাপ হবে।’