স্কুলের বেদখল জমি উদ্ধারে আগ্রহ নেই, আদিবাসীদের দোকান উচ্ছেদ করার ছক!,এসজেডিএ, পঞ্চায়েত সমিতি ও কাউন্সিলের সংঘাতের শঙ্কা
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সরকারি স্কুলের জমি বেদখল। তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আদিবাসীদের দোকান ভাঙতে অভিযান এসজেডিএ’র। বৃহস্পতিবার মাটিগাড়ায় মহাকাল মহাতীর্থর জমি সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। এনিয়ে মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতি, প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ ও এসজেডিএ’র মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা। বিধানসভা ভোটের মুখে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক চরমে উঠেছে। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।গত শুক্রবার মাটিগাড়ার চামটা নদীর পাড়ে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় এলাকাটি ছিল চাঁদমণি চা বাগানের অধীনে। সেই জমির পাশেই বাগান লাইনে বসবাস করেন আদিবাসী চা শ্রমিকরা। বছর খানেক আগে সেখানে কয়েকজন আদিবাসী চা-পান, হোটেল প্রভৃতির ছোট দোকান দেন। এদিন দোকানগুলি ভাঙতে অভিযানে নামে এসজেডিএ। তাতেই গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রোমোটার, বিল্ডারদের দালালি করার উদ্দেশ্যেই এসজেডিএ দোকানগুলি অন্যায়ভাবে ভাঙার চেষ্টা চালায়। এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার অবশ্য বলেন, এসজেডিএ’র জমি দখল করার অভিযোগ পেয়েই সেখানে অভিযান চালানোর জন্য টিম যায়। তারা দোকান সরানোর জন্য চার-পাঁচদিন সময় চেয়েছে। তাই এদিন কোনও দোকান ভাঙা হয়নি।সংশ্লিষ্ট এলাকার পাশেই সরকারি প্রাথমিক স্কুল। বর্তমানে সেখনে প্রাথমিক ও জুনিয়ার হাইস্কুলের ক্লাস হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একদা স্কুলটির নামে প্রায় সাড়ে তিনবিঘা জমি ছিল। সেই জমির একাংশ দখল করে একটি সংস্থা ভবন তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর পর অভিযুক্ত সংস্থা ভবনটি ভেঙে দিলেও জমি ঘেরা দিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্বিকার হলেও এসজেডিএ আদিবাসীদের দোকান ভাঙার চেষ্টা করায় ক্ষুব্ধ মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতি।তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, স্কুলের জমি উদ্ধারে উদ্যোগী হচ্ছে না এসজেডিএ। কিন্তু ভোটের মুখে আদিবাসীদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে। এটা বরদাস্ত করা যায় না। তাই স্কুলের জমি উদ্ধার করার দাবি এবং আদিবাসীদের দোকান করে দেওয়ার প্রস্তাব জেলা প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাব।এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান অবশ্য বলেন, ওই স্কুলের জমি আমাদের নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে পারব না। সেটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের জমি। শিলিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপ রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে এসজেডিএ ও জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দরবার করেছি। সাড়া পাইনি। সরস্বতী পুজোর পর আবার বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া করব। কিছু না হলে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। • দখলমুক্ত অভিযান ঘিরে উত্তেজনা মাটিগাড়ায়। - নিজস্ব চিত্র।