সংবাদদাতা, দিনহাটা: ধর্ম নয়, মানবিকতাই এখানে সবচেয়ে বড় পরিচয়। বাঙালির সংস্কৃতিকে সামনে রেখে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হচ্ছে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে। সরস্বতী পুজোর আয়োজনে একসঙ্গে হাত মিলিয়েছেন মুসলিম চিকিৎসক, হিন্দু ও খ্রিস্টান নার্সিং স্টাফ সহ হাসপাতালের সমস্ত কর্মীরা। ভিন্ন ধর্মের পরিচয় থাকা সত্ত্বেও উৎসবের আনন্দে সবাই একসূত্রে বাঁধা পড়েছেন।বিদ্যার দেবীর আরাধনায় সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন মুসলিম চিকিৎসক গাজী নিজাম আনোয়ার। পাশে রয়েছেন খ্রিস্টান নার্সিং স্টাফ বিনোদ ওরাওঁ সহ অন্যান্য কর্মীরা। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে এখন পুজোর প্রস্তুতির ব্যস্ততা, যেখানে ধর্মের ভেদরেখা মুছে গিয়ে শুধুই মিলন মেলার ছবি ফুটে উঠছে।এবছর দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের সরস্বতী পুজো ১৪তম বছরে পদার্পণ করেছে। হাসপাতালের সুপার রঞ্জিত মণ্ডল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বৃহৎ পরিসরে পুজো আয়োজনের সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই হাসপাতালে কর্মরত সকলেই এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।এবারের পুজোর বাজেট প্রায় এক লক্ষ টাকা। পুজোর দিন ৫০০ জনকে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকছে। শিশুদের জন্য অঙ্কন প্রতিযোগিতা, মহিলাদের জন্য আরতি প্রতিযোগিতা, ম্যাজিক শো এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনহাটার কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নির্বাচন করে এনেছেন চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফরা। নার্সদের পছন্দ করা প্রতিমাই চূড়ান্ত হয়েছে।চিকিৎসক গাজী নিজাম আনোয়ার বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এই সরস্বতী পুজো। এই সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমরা সকলে মিলেমিশে সহযোগিতা করছি। নার্সিং স্টাফ বিনোদ ওরাওঁ বলেন, আমরা খ্রিস্টান হলেও ছোটবেলা থেকেই পাড়ার সবাই মিলে সরস্বতী পুজোয় অংশ নিয়েছি। আমাদের ধর্মীয় উৎসবে যেমন সকলে আসে, তেমনই আমরাও সকলের উৎসবে আনন্দের সঙ্গে শামিল হই। নার্স রবিনা তামাং বলেন, হাসপাতালের সবাই মিলে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এবারের পুজো উদযাপন করা হবে।হাসপাতালের সুপার রঞ্জিত মণ্ডল বলেন, সরস্বতী পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। এখানে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সকলে একসঙ্গে অংশ নিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরছেন।দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের এই সরস্বতী পুজো আবারও প্রমাণ করল—বাংলার সংস্কৃতির মূল শক্তি তার সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিকতায়। • নিজস্ব চিত্র।