• জলপাইগুড়িতে সপরিবার বিএলও’কে শুনানির নোটিস!
    বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এতদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর শুনানির নোটিস ধরাচ্ছিলেন। এবার সেই বুথ লেভেল অফিসারই হিয়ারিংয়ের নোটিস পেলেন। শুধু তিনি একা নন, তাঁর স্ত্রী এবং বৃদ্ধ মায়ের নামেও ইস্যু হয়েছে শুনানির নোটিস। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২৮ নম্বর পার্টের বিএলও মহম্মদ মহাফুজার রহমান ও তাঁর পরিবার।ধূপগুড়ি সার্কেলের জাকোইকোণা নিউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাফুজার। বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতে বসে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমার বাবার নামের বানান বাংলায় ঠিক থাকলেও ইংরেজিতে ভুল রয়েছে। আর সেকারণে আমাকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর তোপ, আমার ৬০ বছরের বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রীও শুনানির হাত থেকে রেহাই পাননি। এভাবে হয়রানি করার কোনও মানে হয় না।বিএলওর স্ত্রী সালেমা বেগম বলেন, আমরা চার বোন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোথা থেকে খুঁজে পেয়েছে, আমরা ছয় ভাই-বোন। সেকারণে আমাকে হিয়ারিংয়ের নোটিস ধরানো হয়েছে। সালেমার ক্ষোভ, আমার ছ’মাসের সন্তান। যেভাবে হিয়ারিং সেন্টারে ভিড় হচ্ছে এবং ঝামেলা অশান্তি হচ্ছে, তাতে একরত্তি সন্তানকে নিয়ে কীভাবে শুনানিতে যাব, সেটা ভেবেই ভয় লাগছে। বিএলওর বৃদ্ধা মা মমতাজ বেগম বলেন, প্রায় গত চল্লিশ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও আমার নাম রয়েছে। আমি আমার মায়ের সঙ্গে লিংকেজ করিয়েছি। এখন বলা হচ্ছে, মায়ের সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য নাকি ১৫ বছরের কম। আগেকার দিনের মানুষের ভোটার তালিকা তৈরির সময় কি এতকিছু মাথায় রেখে হিসেব কষে বয়স বসানো হতো? কিন্তু তারজন্য এভাবে হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানোর কী কারণ রয়েছে বুঝে পারছি না। এসব হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়। বিএলও মহাফুজার রহমান বলেন, আমার বুথে ১৪০ জনের এখনও পর্যন্ত নোটিস এসেছে। এতদিন এলাকার লোকজনকে এসআইআর শুনানির নোটিস ধরাচ্ছিলাম। এখন আমার সপরিবার হিয়ারিংয়ের নোটিস আসায় লোকজন পাল্টা প্রশ্ন করছেন।   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)