নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পর নন্দীগ্রামে বিজেপিতে ডামাডোল তুঙ্গে। অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানেও নন্দীগ্রামে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি। এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে ধর্মীয় ওই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রেয়াপাড়া পাওয়ার হাউস মাঠ পর্যন্ত মিছিল হয়। মিছিল শেষে সভা হয়। সেই সভা মঞ্চে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি পবিত্র করকে নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। ‘দাদা’-র সামনে পবিত্রের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। ওই বিজেপি নেতা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তাছাড়া, দীর্ঘদিন তাঁকে বিজেপির কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি। এই বৃহস্পতিবার রেয়াপাড়ার মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে দলের কর্মীরাই তীব্র আপত্তি তোলেন। সেই আপত্তি থেকেই মুহূর্তে গন্ডগোল তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত মঞ্চ ছাড়েন ‘দাদা’। ‘দাদা’-র অনুগামী হিসেবে পবিত্র কর ২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একসময় নিজে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর একটি রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস জেলে ছিলেন। এই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী শিউলি কর বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান। তিনি বিজেপিতে আসার পর অল্প দিনের মধ্যেই দলের জেলা সহ সভাপতি হন। খুব কম সময়ের মধ্যে দলে তাঁর গুরুত্ব বৃদ্ধি নিয়েও দলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ওঠেছিল। তবে, সাম্প্রতিক বেশকিছু ঘটনায় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মধুর নয়। কারণ, পার্টি নেতৃত্বকে এড়িয়ে বয়ালে নিজে একটি কার্যালয় খুলেছেন। দলের অন্দরে খবর, তৃণমূল কংগ্রেসে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন পবিত্রবাবু। দল বদলের গুঞ্জনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার পবিত্র কর রেয়াপাড়ায় বিজেপির ওই কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে আসেন। মঞ্চে তাঁকে দেখা যায়। এনিয়ে মঞ্চের মধ্যেই আপত্তি ওঠে। তাঁকে নীচে নেমে যেতে বলা হয়। কিন্তু, তিনি না নামায় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে আশঙ্কা করে ‘দাদা’ নিজেই নেমে যান। গোটা ঘটনায় ব্যাপক হইচই পড়ে। এদিন সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে মিছিল শুরু হলেও পবিত্র কর সেখানে যোগ দেননি। বরং রেয়াপাড়া পাওয়ার হাউস মাঠে মিছিল পৌঁছনোর কিছুটা আগে তিনি দলবল নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষো চলতে থাকে। তারপর একেবারে মঞ্চে ওঠে পড়ার পরই শুরু হয় ক্ষোভ। বয়াল-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাংগঠনিক কাজকর্ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করেন পবিত্র কর। পার্টি করতে গিয়ে জেলও খেটেছেন। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর কিংবা নন্দকুমারের মতো যে কোনও একটি বিধানসভায় প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। যদিও দল থেকে এরকম কোনও আশ্বাস মেলেনি। এই অবস্থায় দলের কর্মসূচি থেকে অনেকটাই দূরে। সেই সঙ্গে তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তাঁকে নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ক্ষুণ্ণ। তাই অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রেয়াপাড়ার সভায় তাঁকে ঘিরে ক্ষোভ প্রবল হয়ে ওঠে।সম্প্রতি নন্দীগ্রামে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রবল আকার নিয়েছে। গত সোমবার দলেরই প্রচার গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে সোনাচূড়া ও কালীচরণপুরে। সেখানে প্রচার গাড়ি থেকে মাইক, ফ্লেক্স খুলে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতারা। গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলকুণ্ডুতে দলের নেতাদের হাতেই মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বুথ সভাপতিকে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, পবিত্র কর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে যেতে পারেন বলে একটা গুজব ওঠেছিল। তা নিয়ে কর্মীদের একটা অংশ ক্ষুব্ধ। এদিন কেউ কেউ সেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পবিত্র করকে এ নিয়ে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও জবাব দেননি। নিজস্ব চিত্র