নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: চেনা মেজাজ, চেনা ভঙ্গি। রাজনীতির ময়দানে ফের স্বমহিমায় অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার ইলামবাজারের জনসভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন, তেমনই সুর চড়ালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন ‘গুড়-বাতাসার’ প্রবক্তা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কেষ্ট সাফ জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আমাদের কপালে কষ্ট আছে। অন্ধকার নেমে আসবে।বৃহস্পতিবার ইলামবাজারের রাইস মিলের মাঠে সভা করেন অনুব্রত। ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। এদিন সভার শুরুতেই ভিড় দেখে আপ্লুত অনুব্রত ব্লক কমিটি ও স্থানীয় ন’টি অঞ্চলের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। ইলামবাজারে ব্লক যে বিধানসভার অন্তর্গত, সেই বোলপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রনাথের হয়ে সওয়াল করে অনুব্রত বলেন, ২০১১ থেকে আপনারা চন্দ্রনাথকে জেতাচ্ছেন। ইলামবাজার আগে কী ছিল, আর এখন কী হয়েছে সেটা আপনারা নিজেরাই জানেন। যখনই ডেকেছেন ওঁকে পাশে পেয়েছেন। ২০১৬ এবং ২০২১-এ ওঁকে জিতিয়ে ইলামবাজারের লোকসান হয়নি।কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন অনুব্রত। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, লজ্জা লাগে না? সকাল ৮টা থেকে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। ভোটাদের বাদ দিয়ে ওরা নির্বাচনে জিতবে বলে মনে করছে। লবডঙ্কা! তোমরা ভোটার বাদ দেবে আর আমরা কি আঙুল চুষব? তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিজেপি যতই এসআইআর করুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব নয়। বোলপুর বিধানসভায় যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, ৫০-৬০ হাজার ভোটে মানুষ তাঁকে জেতাবে।’ জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, জেতাবেন তো? জনগর্জনেই প্রশ্নের উত্তর আসে, হ্যাঁ, জেতাব।অনুব্রত বলেন, সন্তান পেটে থাকাকালীন লাথি মারলে মা আনন্দ পান। কিন্তু সেই সন্তান বড় হয়ে মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালে মায়ের চোখে জল আসে। আমরা সেই দিন দেখতে চাই না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি দাবি করেন, নেত্রী সবাইকে নিয়ে চলতে জানেন। তাঁর কথায়, বাবা-মা শুধু সুখ দেন, দুঃখ দেন না। তাই বাবা-মায়ের পুজো করুন।রাজ্যের মানুষকে ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেও গর্জে ওঠেন অনুব্রত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের এখানে কি কোনও রোহিঙ্গা বা মায়ানমারের লোক আছে? লজ্জা লাগে না তোমাদের? অন্য রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে না। শুধু পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে হবে। কিন্তু মনে রেখো, আল্লাহ আর ঈশ্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায় আছেন। সেইসঙ্গে, আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের তিনি মনে করিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে আমাদের আলো জ্বলে থাকবে, না থাকলে অন্ধকার নেমে আসবে। • নিজস্ব চিত্র