পূর্ব বর্ধমানে এখনও আড়াই লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি,পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চায়েতস্তরেও শুনানি
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পঞ্চায়েত অফিসগুলিতেও শুনানি করবে কমিশন। এখন বিডি, এসডিও অফিসগুলিতে ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের শুনানি চলছে। তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণে যেসব এলাকায় বহু ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে, সেখানে পঞ্চায়েতে ডাকবে কমিশন। জেলায় এখনও প্রায় আড়াই লক্ষ বাসিন্দার শুনানি বাকি রয়েছে। কেন্দ্র না বাড়ালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হবে না। এক আধিকারিক বলেন, সব পঞ্চায়েত অফিসে শুনানি কেন্দ্র হবে, এমনটা নয়। যেসব এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে পঞ্চায়েত অফিসে শুনানি কেন্দ্র করা হবে। চার-পাঁচদিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় নো ম্যাপিং ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ১৯ জন। ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৩৫ জনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৯ হাজার ৮১১, কাটোয়ায় ৩৪ হাজার ৮২৫, পূর্বস্থলী উত্তরে ৩৫ হাজার ৩৬৮, পূর্বস্থলী দক্ষিণে ৩২ হাজার ৯৯ জনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খণ্ডঘোষে ৩০ হাজার ৯২৫, বর্ধমান দক্ষিণে ২১ হাজার ৪৬৬, রায়নায় ২৯ হাজার ৬৮ জনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খণ্ডঘোষে নো ম্যাপিং ভোটার রয়েছেন ২৯০৬ জন। বর্ধমান দক্ষিণে ১২ হাজার ৭১০, রায়নায় ২১৫০, জামালপুরে ৩৬২৫, মন্তেশ্বরে ২৫৯৪, মেমারিতে ৯২৫৪, পূর্বস্থলী দক্ষিণে ৭৬৮৯ জন নো ম্যাপিং রয়েছেন। নো ম্যাপিং ভোটারের ক্ষেত্রে মতুয়ারা সবথেকে বেশি সংখ্যায় বাদ গিয়েছেন। তবে, ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে সংখ্যালঘুরাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন।অপর এক আধিকারিক বলেন, যাঁরা নথি জোগাড় করতে পারেননি, তাঁদের সময় দেওয়া হচ্ছে। বহুজনের বাবা, মা বা দাদুর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথিও নেই। তাঁরা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা করতে পারেন। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের আরও আগে শুনানি কেন্দ্র বাড়ানো উচিত ছিল। তাহলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে জনতাকে নাজেহাল হতে হত না। অনেককেই তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। মহিলা থেকে বৃদ্ধ কেউ এই হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। বিডিও, এসডিও অফিসগুলিতে বড় জায়গা নেই। ঘেঁষাঘেঁষি করে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ভোটারদের শুনানি শুরু হচ্ছে। তাঁদেরও একই রকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অর্ঘ্য দাস নামে এক নতুন ভোটার বলেন, এভাবে হয়রান হতে হবে জানলে আসতাম না। আড়াই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। নাগরিকদের যেমন উচিত ভোটার তালিকায় নাম তোলা, তেমনই কমিশনেরও উচিত উৎসাহ দেওয়া। এভাবে হয়রানি করে তারা কী প্রমাণ করতে চাইছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। আগে থেকে কমিশনের সুষ্ঠু পরিকল্পনা করা উচিত ছিল।