নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: নিয়ম ভেঙেই গত ১৫ জানুয়ারি একসঙ্গে ফর্ম-৭ জমা দিতে গিয়েছিল বিজেপি। তারপর ১৯ জানুয়ারিও একই চেষ্টা করেছিল গেরুয়া শিবির। পরিকল্পনা ছিল, ফর্ম-৭ জমা করে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক মহল। যদিও তাতে সফল হয়নি পদ্ম শিবির। গত ডিসেম্বর মাসে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এখনও পর্যন্ত নদীয়া জেলাজুড়ে মাত্র ১১৪৬টি ফর্ম-৭ জমা পড়েছে। যাকে ছাব্বিশের ভোটের আগে বিজেপির প্রথম ‘নির্বাচনী ধাক্কা’ বলে মনে করছেন অনেকেই। অন্যদিকে বিজেপিকে রুখে দেওয়ায় তৃণমূল নিজেদের রাজনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে। অন্যদিকে ৩৭ হাজার ৮১৪টি ফর্ম-৬ এবং ১৪ হাজার ৩৭২টি ফর্ম-৮ জমা পড়েছে।কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি তথা কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, নির্বাচন কমিশন এসআইআরের নামে মানুষকে হায়রানি করছে। এর মধ্যে বিজেপি ফর্ম-৭ জমা করে মানুষের ভোটাধিকার কাড়ার চক্রান্ত করছিল। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।নদীয়া জেলাজুড়ে এসআইআরের শুনানি চলছে। অনম্যাপড এবং সন্দেহজনক ভোটার মিলিয়ে আট লক্ষের বেশি ভোটারের শুনানি করা হচ্ছে। কিন্তু, এসআইআর শুনানির প্রথম পর্বে দেখা যায়, নদীয়া জেলায় দুই লক্ষ ৮১ হাজার আনম্যাপড ভোটারের দুই লক্ষ ২৩ হাজার ভোটার রয়েছে বিজেপির গড় নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতে। বহু মানুষ কমিশন নির্ধারিত নোটিস দেখাতে পারছিলেন না। স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু ভোট বাক্সে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে জেলাজুড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষকে চিহ্নিত করে কমিশন। তাঁদের শুনানিতে ডাকার ফতোয়া জারি করা হয়েছে। এবার দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ভোটারদের মধ্যে একটা বড় অংশই সংখ্যালঘু ভোটার।এই পরিস্থিতিতে গত ১৫ জানুয়ারি বিজেপির তরফ থেকে জেলাজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার ফর্ম-৭ জমা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নদীয়া জেলাশাসকের অফিসের সামনেই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। যদিও সেই পদ্ধতি কমিশনের চোখে খাতায় কলমে ছিল নিয়ম বহির্ভূত। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফর্ম–৭ জমার ক্ষেত্রে সমষ্টিগত বা একসঙ্গে অনেক আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়; শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আবেদনই নেওয়া হবে। ডাকযোগে একসঙ্গে দাবি–আপত্তি পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারের কাছেই ফর্ম জমা দিতে হবে।কমিশন স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টরা খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে প্রতিদিন সর্বাধিক ৫০টি এবং পরে সর্বাধিক ১০টি ফর্ম জমা দিতে পারবেন। যদিও পরবর্তীকালে সেই লিমিটেশন তুলে দেওয়া হয় কমিশনের তরফ থেকে। সেইসঙ্গে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওইদিন সকালের দিকে কল্যাণী বিধানসভা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি ফর্ম-৭ জমা দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। তৃণমূলের তরফ থেকে বাধা দেওয়া হয়।তবে নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলাতেও বিকেলের দিকে বিজেপির তরফ থেকে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিসে কার্যত ‘দুর্গ’ হয়েই দাঁড়িয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপি কোনও ব্লকেই ফর্ম-৭ জমা করতে পারেনি। তাতেই দেখা যাচ্ছে, গত বুধবার পর্যন্ত নদীয়া জেলাজুড়ে ১১৪৬টি ফর্ম জমা পড়েছে। তাতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।