সংবাদদাতা, মানকর: এসআইআরে নানা ভাবে হেনস্তা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বাংলার বাসিন্দারা। বৃদ্ধ, অসুস্থদের নিয়ে যেমন টানাহেঁচড়া চলেছে, তেমনি অনেকেই কাজকর্ম শিকেয় তুলে নথি জোগাড়ে ব্যস্ত থেকেছেন। যার ফলে হারাতে হয়েছে রোজগার। সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে। হয়রানি এবং হেনস্তার এই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও। সরাসরি না প্রভাবিত না হলেও পরোক্ষে পর্যটন শিল্পকে খোঁডা করে দিয়েছে এসআইআর। গলসি, পানাগড়, মানকর থেকে বহু পর্যটক জানুয়ারি মাসের শেষ ও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শুনানি নোটিস চলে আসায় ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন পর্যটকরা। তাতে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বাস মালিক, পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল মালিকদেরও।পানাগড়, দুর্গাপুর এলাকার কয়েকজন বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকেই আগে থেকে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে বুকিং করে গিয়েছিলেন। কিন্তু আচমকা নোটিস চলে আসায় সেই ট্রিপ বাতিল করে দিচ্ছেন। এক বাস মালিক বলেন, অনেকেই পুরো দল নিয়ে বাসে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এখন ভাড়া করেও তা বাতিল করে দিচ্ছেন পর্যটকরা। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তিনি জানান, দীঘা, রাজগীর, নালন্দা সহ বিভিন্ন জায়গায় দুই থেকে তিনদিন কখনও সাতদিনের জন্য বাস বুকিং হয়েছিল। একটি বাসে প্রায় ষাট থেকে সত্তর জন যাত্রী নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বেড়ানোর তারিখে পর্যটকদের মধ্যে কুড়ি-পঁচিশ জনের নোটিস চলে এসেছে। ফলে তাঁরা যেতে চাইছেন না। আর্থিক ক্ষতি বাঁচাতে ট্যুর অপারেটাররাও আর বাকি দলটিকেও নিয়ে যেতে চাইছেন না। বাস বুকিং করেও বাতিল হওয়ায় কার্যত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। তাঁরা বলছেন, গত বছর বাংলাদেশ, তারপর নেপাল, আর এখন এসআইআর শুনানি নোটিস। এই নিয়ে পর্যটন শিল্প পরপর তিনবার ধাক্কা খেল। ওই দিনগুলিতে এখন অন্য ভাড়াও পাওয়া যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। বাস বসিয়েই রাখতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।কয়েকটি পর্যটন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, যাঁদের শুনানি নোটিস আসেনি তাঁরাই বেড়াতে যাচ্ছেন। ফলে পর্যটকের সংখ্যা অন্য বছরের থেকে কম। অনেকেই আগে থেকে সংস্থায় বলে রাখলেও নোটিস পেয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। কাঁকসার বাসিন্দা সুব্রত ঘোষ বলেন, সরস্বতী পুজো থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস, অর্থাৎ শুক্রবার থেকে সোমবার টানা ছুটি ছিল। আমাদের একটি দলের দীঘা যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কয়েকজনের নোটিস আসায় পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। কাঁকসার এক গৃহবধূ বলেন, তিনদিনের ছুটিতে দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমাকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। বাবার নামের বানান ভুলের জন্য। নোটিস পাওয়ার পর থেকে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছাই চলে গিয়েছে। তাই পরিকল্পনা বাতিল করেছি।