• শীতেও বেশ চড়া ফুল-ফলের দাম, সরস্বতী পুজোর বাজার করতে হিমশিম অবস্থা সবার
    বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এবার শীতে সবজির দাম এমনিতেই বেশি ছিল। সরস্বতী পুজোতেও চড়া থাকল বাজার। এজন্য গৃহস্থ থেকে পুজো কমিটি—সকলকেই বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। সবজি থেকে ফল-ফুল, সবটাই বিকোচ্ছে চড়া দামে। যদিও দোকানদাররা জানাচ্ছেন, সরস্বতী পুজোর জন্য নতুন করে দাম বেড়েছে এমনটা নয়। কয়েকসপ্তাহ ধরেই যে চড়া দামে জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে, সেটাই রয়েছে। অল্পকিছু জিনিসেরই দাম হয়তো দু-পাঁচ টাকা বেড়েছে। এদিন হাতিবাগান বাজারে গিয়ে দেখা গেল বেশি দামের কারণে কম পরিমাণে ফল কিনছেন সুচন্দ্রা আচার্য। বললেন, আপেল ২০০ টাকা কিলো! দাম এত বেশি, কিনব কী করে। পুজোর জন্য যত টুকু না কিনলেই নয়, সেটুকুই কিনছি। তবে বিক্রেতা সুনীল সাউয়ের কথায়, দাম তো সেই কবে থেকেই চড়া, আর কমেনি। অবশ্য অন্যান্য বছর শীতে দাম কিছুটা কমই থাকে। এবারই ব্যতিক্রম। পাশে অভয় সাউয়ের দোকানে বিক্রি হচ্ছে পুজো আয়োজনের নানা জিনিসপত্র—থালা, গেলাশ, কন্টেনার, ন্যাপকিন প্রভৃতি। তাঁর কথায়, ফুল-ফলের দাম বাড়ে। আমাদের সেই ব্যাপার নেই। তবে, কেউ পাইকারি পরিমাণে কিনলে দাম অবশ্যই কিছুটা কম হয়।অন্যদিকে, ফুলের বাজারও চড়া। মানিকতলার বাসিন্দা ঋতপা ভৌমিকের কথায়, আগে আমার বাড়িতে সপ্তাহে ২০০ টাকার ফুলে হয়ে যেত। এখন প্রায় ৩০০ টাকার ফুল লাগছে। সবজির দামেও স্বস্তি নেই। শিম থেকে ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি, সবকিছুরই আগুন দাম। বিক্রেতা কার্তিক সাহা বলেন, এবছর সবজির দাম আর কমল কই! আগের মতো শীতকালে ১০-১৫ টাকা কেজি দরে সবজির কথা ভুলে যান।অন্যদিকে, বিভিন্ন জেলাতেও সব অগ্নিমূল্য। স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উৎসাহ যথেষ্ট। জোর কদমে চলছে আলপনা আঁকা, রঙিন কাগজে মণ্ডপসজ্জা বা ক্লাসঘর সাজানো। কিন্তু তাল কাটছে ফলের বাজারে। বাজার করতে গিয়ে বাজেট ফেল করছে উদ্যোক্তাদের। গ্রামীণ বাজারেও দাম চড়া। বাদুড়িয়া, হাসনাবাদ, বসিরহাট ও হিঙ্গলগঞ্জ বাজারে এদিন পেয়ারা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি, অন্যদিনের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি। যে আপেল হাফ কেজি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় মিলত সেটাই এদিন গিয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। শাকালু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে, অন্য সময়ের তুলনায় ১০ টাকা বেশি। কুলের কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ৫০ থেকে ৬০ টাকা নারকেলের পিস। অন্যদিকে ফলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুচরো ফুল (গাঁদা) বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বাদুড়িয়া এল এম এস (গালর্স) স্কুলের শিক্ষিকা মানবী ভট্টাচার্য বলেন, বাজার দর বেশ চড়া এবার। তাই কিছু কাটছাঁট করতেই হচ্ছে কেনাকাটায়। ফল বিক্রেতা খোকন মণ্ডলের দাবি, ফলের জোগান কম এবং চাহিদা বেশি। এজন্য শীতের মধ্যেও বাজার দর বেশ চড়া এবার, পুজোর জন্য উনিশ-বিশ হয়েছে মাত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)