• রামকৃষ্ণের নামে বিশ্ববিদ্যালয় বিল কেন আটকে রাজভবনে, ‘ব্যক্তিগত’! অদ্ভুত সাফাই আরটিআইয়ে
    বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • দেবাঞ্জন দাস ও সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামে বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রাসঙ্গিক ‘রামকৃষ্ণ পরমহংস ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৪’ বিধানসভায় পাশ হয়েছিল সে বছরের ১০ ডিসেম্বর। এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত। কিন্তু সেই বিলে এখনও ‘সম্মতি’ দেয়নি রাজভবন। অথচ উত্তর শহরতলির আগরপাড়ায় ভবন সহ যাবতীয় পরিকাঠামো নিয়ে সম্মতির অপেক্ষায় দিন গুনছে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন। এই পর্বেই বারাকপুর আদালতের এক আইনজীবী বীরেন্দ্রনাথ ভকত রাইট টু ইনফর্মেশন অ্যাক্ট (আরটিআই) ২০০৫ অনুযায়ী ওই বিলের বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, রাজ্যপাল বিলে সম্মতি দিয়েছেন কি না! জবাবে রাজভবন থেকে যা জানানো হয়েছে, তাতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোড়ন। রাজ্যপালের সচিবালয়ের এক উপসচিব তথা স্টেট পাবলিক ইনফর্মেশন অফিসার লিখিতভাবে ওই আইনজীবীকে জানিয়েছেন, আপনি যে তথ্য জানতে চাইছেন, আরটিআই, ২০০৫’এর সেকশন ৮(১)জে, অনুযায়ী তা দিতে ‘বাধা’ রয়েছে। আরটিআই’য়ের ওই সেকশন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবার, স্বাস্থ্য, সম্পত্তির বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া যায় না। সেকশনে স্পষ্ট বলা রয়েছে, জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়, অর্থাৎ ব্যক্তিগত কোনও তথ্য জানতে চাওয়া যায় না। তবে রাজ্যের পড়ুয়াদের আধুনিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য গড়ে উঠছে যে বিশ্ববিদ্যালয়, তার বর্তমান স্টেটাস জানতে চাওয়াটা কীভাবে ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ হয়, তা বোধগম্য হচ্ছে না কারও। হতাশার সুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের সম্পাদক স্বামী নিত্যরূপানন্দের গলাতেও।শুধু আগরপাড়ার এই বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, রাজভবনে আটকে রয়েছে আরও দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলার ‘পারমিট’। টালিগঞ্জের ‘দ্য ভবানীপুর গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বিল’ এবং হুগলির ধনেখালির ‘রবীন্দ্রনাথ টেগোর ইউনিভার্সিটি বিল’ পড়ে রয়েছে রাজভবনে। এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। উচ্চশিক্ষার প্রসারে রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আইনি আকারে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজভবনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলছে সবপক্ষই। তা সত্ত্বেও আরটিআইয়ের জবাবে এহেন ‘ছেঁদো’ এবং ‘অদ্ভুত’ সাফাই কেন দেওয়া হল, তা নিয়ে আলোড়ন শুরু হয়েছে।রাজভবনের জবাবে বিস্মিত আইনজীবী বীরেন্দ্রনাথবাবু। তাঁর কথায়, ‘জবাবে আরটিআই অ্যাক্টের যে সেকশনের উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ধারায় ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া যায় না। আইনজীবী হিসাবে সেটা জানি। কিন্তু আমি তো জানতে চেয়েছিলাম, ওই বিশ্ববিদ্যালয় বিলের বর্তমান স্টেটাস। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তা ব্যক্তিগত তথ্য হয় কীভাবে!’উষ্মা প্রকাশ করে স্বামী নিত্যরূপানন্দ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক স্বামী নিত্যানন্দ এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণের নামে কোথাও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ঠাকুরের সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভাবধারার উপর ভিত্তি করেই এই বিশ্ববিদ্যালয়। রাজভবনে এই বিল আটকে রয়েছে। তার স্টেটাস সম্পর্কে কেন সঠিক তথ্য জানানো হল না? বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যের!’
  • Link to this news (বর্তমান)