বইমেলা উদ্বোধনেও জ্বালাময়ী মমতা, ‘ভোটার নয়! বাংলার সরকার কি কমিশন ঠিক করে দেবে?’
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন। রাজনীতির বাইরে একেবারে অন্য মঞ্চ। কিন্তু সেই আবেগকেও কোথায় যেন ছাপিয়ে গেল আম জনতার হয়রানি। সৌজন্যে? এসআইআর এবং কমিশনের একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্ত। আর তাই থেমে থাকলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ওই মঞ্চ থেকেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে গর্জে ওঠার জন্য ডাক দিলেন সাধারণ মানুষের উদ্দেশেও। বুঝিয়ে দিলেন, ভোটারের বদলে যদি কমিশন ঠিক করে দিতে চায় যে, বাংলায় কোন দল সরকার গড়বে—সেটা তাঁর একেবারেই না-পসন্দ। কারণ, এই প্রবণতা গণতন্ত্রের হত্যার শামিল। তবে শুধু প্রতিবাদ নয়। বইমেলায় কল্পতরুও হয়েছেন মমতা। ভবঘুরে দশা কাটিয়ে বইমেলার নিজস্ব ঠিকানা দিয়েছেন তিনিই। সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গন। দীঘার জগন্নাথ মন্দির, নিউটাউনের দুর্গাঙ্গনের মতো এবার গিল্ডের দাবিতে নতুন ‘বইতীর্থ’ নির্মাণের ঘোষণা করলেন। এই ‘তীর্থ’ সাজবে শুধু বই দিয়ে। মেলায় বসেই তার একটি নকশাও তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন ১০ কোটি টাকার। তাঁর কথায়, ‘৫০ বছরের উদ্বোধনে এসে যেন বইতীর্থ দেখতে পাই।’ গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বইমেলা প্রাঙ্গনের পর ‘বইতীর্থ’ পেলাম। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী?বৃহস্পতিবার বইমেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমদিনেই আছড়ে পড়ে পাঠকদের ভিড়। মুখ্যমন্ত্রী নিজের লেখা ন’টি বইয়েরও মোড়ক উন্মোচন করেন। এসআইআর নিয়ে কবিতার বই লিখেছেন তিনি। তাঁর ১৫৩টি বই ছিল। এবার বেড়ে হল ১৬৬! লেখা নিয়ে বললেন, ‘বাইরে যেতে যেতে লিখি। ছবিও আঁকি। দু’বার প্রদর্শনী করেছিলাম। তার জন্য সিবিআই হয়ে গেল! আমার একমাত্র রোজগার বইয়ের রয়্যালটি। এমপির পেনশন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাতাও নিই না। আমি চা পর্যন্ত টাকা দিয়ে খাই। সার্কিট হাউসে থাকলেও টাকা দিয়ে থাকি।’এসআইআর প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আগে নিয়ম ছিল, জনগণ নির্ধারণ করবে, কে সরকারে আসবে, আর কে না আসবে। এখন নির্বাচন কমিশন ভোটের আগেই ঠিক করে দিচ্ছে, কাকে নিয়ে আসবে! মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে! এটা হতে পারে না। সবাই প্রতিবাদ করবেন। মনে রাখবেন, পাশের ঘরে লেগেছে বলে চুপ থাকতে পারি না। আমার পাড়া-প্রতিবেশী যদি সুখে না থাকে, তাহলে আমিও সুখে থাকতে পারব না। এসআইআরে ১১০ জন মারা গিয়েছেন। কাজেই আমরা যেন মানুষের হয়রানির কথাটা মনে রাখি। প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। আমি মমতা ব্যানার্জি। বাংলায় লিখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাস, আমি বাদ! মুখার্জি-মুখোপাধ্যায়, চ্যাটার্জি-চট্টোপাধ্যায় লিখলেই খুব দোষ! একজনকে বলেছে, ৫-৬ জন সন্তানের একজন বাবা হয় কীভাবে? আমরা তো বাবা-মা’র জন্ম কবে, তাই জানি না। আমরা তো হোম ডেলিভারি। অটলজি নিজে একদিন আমাকে বলেছিলেন, ২৫ ডিসেম্বর জন্মদিন নয়! এইরকম অনেকের আছে। এইসব আর বলব না। তাহলে আমরাটাই বাতিল করে দেবে। অমর্ত্য সেনকে যদি বলে, তোমার বাবার সঙ্গে মায়ের বয়সের পাথর্ক্য কত, এর চেয়ে লজ্জার কিছু আছে? মজা পেয়ে গিয়েছে।’বইমেলায় বিমা রয়েছে কি না, তাও এদিন জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন? বললেন, ‘বাই চান্স কেউ যদি দুষ্টুমি করে, তাই জানতে চাইলাম।’