• নবরূপে রক্সিতে ৪৫০ আসন, হলে ফিরবে পুরনো ঐতিহ্যও
    বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ। মাসখানেকের মধ্যে নয়া রূপে প্রকাশ পেতে চলেছে রক্সি হল। উদ্বোধন হবে ৪৫০ আসন বিশিষ্ট প্রেক্ষাগৃহটির।হলে থাকছে গ্রিন রুম, রেস্ট রুম সহ থিয়েটার চালানোর যাবতীয় ব্যবস্থা। রক্সিকে সাজিয়ে তোলার কাজে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কনফেডারেশন অব রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়া (ক্রেডাই)। রক্সি সিনেমা হল মেরামত ও পুনরুদ্ধার করতে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকা খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রক্সিকে আধুনিক অডিটোরিয়ামে রূপান্তরিত করার জন্য ক্রেডাই পাঁচ কোটি টাকা খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাকি পরিকাঠামোর উন্নতিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করছে পুরসভা। বসানো হচ্ছে আধুনিক লিফট। কলকাতার ক্রেডাই’য়ের সভাপতি সিদ্ধার্থ পানসারি, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। রক্সি সিনেমা হল কেএমসির ঐতিহ্যবাহী ভবনের তালিকায় গ্রেড ২এ ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ফলে ঐতিহ্যবাহী ভবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেরামতের কাজ চলছে। কোনও অবস্থাতেই যাতে নতুন নির্মাণে ভবনের ঐতিহ্য নষ্ট না হয় তা খেয়াল রাখা হচ্ছে। ভবনের বাইরের অংশ পুরনো দিনের মতো রঙে রাঙানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভবনের ভিতরে অডিটোরিয়ামের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ সেরে ফেলেছে পুরসভা। সেই সঙ্গে রক্সি বিল্ডিংয়ে পুরনো যে ঘরগুলি রয়েছে সেগুলি সংস্কার করে অফিস ঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। একজন কর্তার বক্তব্য, আমরা সম্মুখভাগ মেরামত এবং রং করব, ক্রেডাই এই অডিটোরিয়াম এবং সংলগ্ন এলাকাকে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে সাজাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অডিটোরিয়ামের ভিতরে এক কোটি টাকারও বেশি খরচ করে সম্পূর্ণ বাতানুকূল ব্যবস্থা গড়েছে পুরসভা। ভবনের গোটা লবি বাতানুকুল করার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তাতেও প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা খরচ হবে। কিভাবে সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে তৈরি রক্সি? জানা গিয়েছে, রক্সি একসময় ছিল এম্পায়ার থিয়েটার নামে এক অপেরা হাউস। যেখানে কিংবদন্তি উদয়ের শঙ্করের নাচের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হত। ১৯৪১ সালে সেখানে প্রথম অশোক কুমার অভিনীত ‘নয়া সংসার’ দেখানো হয়। ১৯৪৩ সালে রিলিজ হওয়া অশোক কুমারেরই ‘কিসমত’ এই হলে ১০৮ সপ্তাহ ধরে চলেছিল। এমন ঐতিহ্যবাহী রক্সি ১৯৮২ সালে পুরসভার হাতে আসে। পরবর্তীকালে সিনেমা চললেও এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। রক্সির সেই ইতিহাস ফুটে উঠবে নতুন ভবনের বিভিন্ন জায়গায়। নবরূপে তৈরি হচ্ছে লবি, মিউজিয়াম। ভবনের বিভিন্ন নকশা থেকে শুরু করে মার্বেলের কাজ সবেতেই থাকছে পুরনো কলকাতার ছোঁয়া। গ্রিন রুম, লবির বিভিন্ন জায়গা, রেস্টরুমেও থাকবে পুরনো ডিজাইনের আসবাবপত্র। ঐতিহ্যের ছোঁয়া দিতে লাগানো হবে পুরনো স্টাইলের বাতি, কল্কা করা রেলিং, কার্পেট।  শিল্পীর চোখে নতুন রক্সি।
  • Link to this news (বর্তমান)