পার্ক সার্কাস মার্কেট নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা পুরসভার, পৃথক সংস্থাকে দিয়ে তৈরি করানো হচ্ছে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট
বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাঙা, জরাজীর্ণ পার্ক সার্কাস মার্কেট ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে চায় কলকাতা পুরসভা। তার আগে কোনও এক বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে বাজারের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট বানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই মর্মে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। কত তলা নতুন বাজার ভবন বানানো যাবে, তার জন্য কত টাকা খরচ হতে পারে, পার্ক সার্কস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ের মতো জায়গায় কোণায় থাকা এই মার্কেট নতুন করে তৈরি করতে গেলে কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, বর্তমান দোকানদারদের নতুন মার্কেট কমপ্লেক্সে কোথায় পুনর্বাসন দেওয়া যাবে, সবটাই থাকবে ফিজিবিলিটি রিপোর্টে।পার্ক সার্কাস বাজারের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিল্ডিংয়ের চাঙর ভেঙে পড়ে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। তাই গোটা বিল্ডিং নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পুরসভা পার্ক সার্কাস ময়দানের একটা অংশে বাজারের দোকানদারদের জন্য আপাতত অস্থায়ী দোকান বানানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কিন্তু, দোকানদারদের একাংশের মতপার্থক্যের জন্য সেই কাজ এগয়নি। পুরসভার বাজার বিভাগ সূত্রে খবর, দোকানদারদের দাবি, তাঁদের সবাইকে নতুন মার্কেটের নীচের তলায় পুনর্বাসনের স্টল দিতে হবে। কিন্তু, পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা যে প্রোজেক্ট রিপোর্ট বানিয়েছেন, তাতে সবাইকে একতলায় জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। দু’টি তলা মিলিয়ে পুনর্বাসন দিতে হবে। কিন্তু, দোকানদাররা তাতে রাজি হচ্ছেন না। তাই পৃথক একটি সংস্থাকে দিয়ে আলাদা করে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কত তলা মার্কেটে কমপ্লেক্স বানানো যাবে, পার্কিংয়ের জন্য বেসমেন্ট তৈরি করা যাবে কি না, করলেও তা কতটা বড় হবে, সেসব রিপোর্টে থাকবে।পার্ক সার্কাসের মতো জায়গায় যেখানে বাজার রয়েছে, তার আশপাশ ঘিঞ্জি। সংলগ্ন একাধিক পুরনো বিল্ডিং রয়েছে। ফলে, বেসমেন্ট তৈরি করাটা চ্যালেঞ্জিং। তাই সব কিছু বাঁচিয়ে কীভাবে সেখানে কাজ করা যাবে, তারও পরামর্শ থাকবে রিপোর্টে। বর্তমান দোকানদারদের নতুন বিল্ডিংয়ে কোথায়, কীভাবে, কতটা অংশে পুনর্বাসন দেওয়া হবে, এই প্রকল্পে কত টাকা খরচ হতে পারে, সবটাই জানাবে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট।বাজার বিভাগের এক কর্তা বলেন, ওখানে যা জায়গা রয়েছে, তাতে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের হিসাবে আট থেকে ১০ তলা বিল্ডিং তৈরি করতেও সমস্যা নেই। কিন্তু, দোকানদারা সবাই একতলাতেই থাকতে চাইছেন। জমি এতটা বড়ো নয় যে বিল্ডিং আইন মেনে নতুন করে তৈরি করার পর সেখানে ৪০০ জন দোকানদারকে একতলাতেই পুনর্বাসন দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে একতলায় বেশি সংখ্যাক ও দোতলায় অল্প সংখ্যক দোকানদারদের পুনর্বাসন দেওয়া যেতে পারে। ফিজিবিলিটি রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই সেই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।