• ভরাট জলাশয়, আবাসন তৈরির আগেই অবৈধ নির্মাণকাজ আটকালেন পুরপিতা
    বর্তমান | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গত কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে ভরাট করা হচ্ছিল আড়িয়াদহের একটি বিশাল জলাশয়। বুধবার সেই জমিতে নতুন আবাসন তৈরির ভূমিপুজো শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, এই কাজে যুক্ত শাসক দলের কিছু প্রভাবশালী ও নামকরা প্রোমোটার গোষ্ঠী। তবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং তৃণমূলের শহর সভাপতির অভিযোগ পেয়ে সক্রিয় হয় পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কমিশনারেটের এসিপি ও বেলঘরিয়া থানা। এরপর ভূমিপুজো বন্ধ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কাউন্সিলারের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।কামারহাটি পুরসভার আড়িয়াদহ ও দক্ষিণেশ্বর হল উত্তর শহরতলির অন্যতম প্রাচীন জনপদ। গত দেড় দশকে কয়েক যুগ পুরনো বিশাল কিছু জলাশয়ের অকালমৃত্যু দেখেছেন পুরনো বাসিন্দারা। অভিযোগ, চোখের সামনে জলাশয় ভরাট ও জমির চরিত্র বদল হয়েছে প্রভাবশালীদের ইঙ্গিতে। তা কার্যত তাঁদের বাঁ হাতের খেলা হয়ে উঠেছে। বাম জমানা থেকে আড়িয়াদহের এক প্রভাশালী প্রোমোটার বরানগর, কামারহাটি পুরসভার বড় অংশ টাকার জোরে নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই প্রোমোটার চক্র গত কয়েক বছর ধরে আড়িয়াদহের কেদারনাথ সিংহ রোডের তেঁতুলতলা মোড়ে একটি বিশাল জলাশয় ভরাট করছিল। বর্তমানে পুকুরের সিংহভাগ ভরাট হয়ে গিয়েছে। শুধু কাঠা পাঁচেক জায়গায় জল রয়েছে। বুধবার অবৈধভাবে ভরাট হওয়া জমিতে আবাসন নির্মাণের ভূমিপুজো শুরু হয়। এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এ কারণে। খবর যায় আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও আড়িয়াদহ-দক্ষিণেশ্বর শহর তৃণমূল সভাপতি দীপাংশু ঘোষালের কাছে। তিনি এলাকা পরিদর্শন করে থানা ও পুলিশ কমিশনারকে জানান। দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানান। এরপর বেলঘরিয়ার এসিপির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী দিয়ে পুজো বন্ধ করে। দীপাংশুবাবু থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে আমি কাউন্সিলার হওয়ার পর এই পুকুর ভরাট নিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তারপরও ভরাট হয়েছে। আমি খবর পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছি। খবর নিয়ে জানলাম, ওই জায়গার চরিত্র খাতায় কলমে বদলে দেওয়া হয়েছে। বাপ-ঠাকুর্দার আমল থেকে দেখে আসা পুকুর রাতারাতি ডাঙা হয়ে যাচ্ছে বিএলআরও অফিস থেকে। কিছু ধান্দাবাজ লোকের লোভের জন্য আমরা কেন বদনাম হব? এই জিনিস আড়িয়াদহে চলতে দেওয়া হবে না। এলাকার বাসিন্দাদের মতো আমিও চাই পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিক। পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)