নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হল মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার একটি রং তৈরির কারখানার গোডাউন। দমকলের সাতটি ইঞ্জিন এসে ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। শর্ট সার্কিট থেকেই এই ঘটনা বলে অনুমান দমকলের। আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। তবে দেখা যাচ্ছে, অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। আগুন নেভানোর নিজস্ব কোনো পরিকাঠামোও তৈরি করেনি তারা। এনিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা।মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিগবেড়িয়ার দ্বিতীয় সরণীতে ৪০টির মতো কারখানা ও গোডাউন আছে। সিংহভাগই রংয়ের। কারখানার মালিক পবন কেরিয়ার পাশাপাশি দু’টি গোডাউন। একটিতে ছিল ৭০টি ড্রাম। অন্যটিতে ২০০ লিটার রাসায়নিক। গোডাউন থেকে ড্রাম ভর্তি রাসায়নিক নিয়ে পাশে কারখানায় রং তৈরি হয়। তৈরি রংয়ের ড্রাম রাখা হয় অন্য গোডাউনে। রাসায়নিক মজুত গোডাউনে এদিন তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুর তিনটের সময় হঠাৎই গোডাউন থেকে আগুন আর ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। আগুন দেখেই তিন শ্রমিক বাইরে বেরিয়ে চলে আসেন।এদিকে, বিপুল রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকলকে। স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহাব মণ্ডল, সাবির আলিরা বলেন, ছয় বছর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কিন্তু মালিকের কোনো হেলদোল নেই। এদিন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে যেতে পারত। এই প্রসঙ্গে দমকল বিভাগের আধিকারিক অরিজিৎ ঘোষ বলেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে আমরাও তদন্ত করে দেখব। মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, কারখানা মালিককে ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনিয়ে কারখানার ইনচার্জ তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আমি তখন বাইরে ছিলাম। ভিতরে থাকা তিন কর্মী দৌড়ে পালিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। একজনের মৃত্যুও হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে পবন কেরিয়ার রংয়ের কারখানায় আগুন লাগে। এক শ্রমিকের মৃত্যুও হয়। সেই সময়েও কারখানায় অগ্নি নির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দমকল ও মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ কারখানার ভিতরে জলের রিজার্ভার করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ জেনেছে, গত ছ’বছরে তা এখনও তৈরি করেনি কর্তৃপক্ষ।