• আগুন ছাই গোটা বাড়ি, SIR-এ নথি কীভাবে আতঙ্কে তিন ভাই
    আজকাল | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: অজ্ঞাত কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি বাড়ি। আগুনে নষ্ট হয়েছে যাবতীয় কাগজপত্র ভোটার কার্ড, আধার, জমির দলিল থেকে শুরু করে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। আর তার জেরেই নাগরিকত্ব প্রমাণ নিয়ে গভীর সঙ্কটে পড়েছেন তিন ভাই। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত আনিকোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ষড়রং গ্রামে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন শেখ সাইফুল, শেখ আশরাফুল ও শেখ মোশারফ। 

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে বাড়ির বেশিরভাগ সদস্যই কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সময়েই আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। এই অবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ‘এসআইআর’-এর শুনানির নোটিশ। বাড়িতে পৌঁছেছে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) সংক্রান্ত নোটিশ। আগামী ২৯ জানুয়ারি তিন ভাইকে শুনানিতে হাজির হয়ে নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু আগুনে সব কাগজ পুড়ে যাওয়ায় কীভাবে প্রমাণ দেখাবেন তা নিয়েই দিশেহারা তিন ভাই ও তাঁদের পরিবার। বর্তমানে তাঁরা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

    পরিস্থিতি জানতে ঘটনাস্থলে যান কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মু। তিনি পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি কম্বল ও বেডশিট দেন এবং ত্রিপল দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিধায়ক জানান, “তিন ভাইয়ের জন্য যে নোটিশ এসেছে, তার ডুপ্লিকেট চাওয়া হয়েছে বিএলও-র কাছে। পাশাপাশি থানা ও বিডিও-কে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে জেনারেল ডায়েরি করে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। আমরাও ওই পরিবারের পাশে আছি।” 

    তবে দুশ্চিন্তা কাটছে না পরিবারের। তাঁদের কথায়, “একে তো সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেল, তার উপর আবার ‘এসআইআর’-এর নোটিশে যদি বিপদে পড়তে হয়, তাহলে কী হবে?”  একদিকে, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। অন্যদিকে, নাগরিকত্ব প্রমাণের চাপ দুইয়ের মাঝে পড়ে অসহায় তিন ভাই এখন প্রশাসনের সাহায্যের দিকেই তাকিয়ে।

    গত বছর নভেম্বরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের ২ নম্বর নিশিন্দ্রা কলোনী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা অপূর্ব কুমার বিশ্বাস আগুনে সব নথি হারিয়েছিলেন। ঠাকুর ঘরে রাখা প্রদীপ থেকে আগুন লেগে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর এনটিপিসি-র ঠিকা শ্রমিক অপূর্ব বিশ্বাস এবং তার পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় নথি আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই ওই পরিবার নথি না থাকার জন্য ‘দেশ ছাড়তে হতে হবে’ এমন আতঙ্কে ভুগছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল ফারাক্কার প্রশাসন। বিধায়ক মনিরুল ইসলাম সব রকম ভাবে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফারাক্কার বিডিও জুনায়েদ আহমেদ তাঁদের হাতে এসআইআর-এর ফর্ম তুলে দিয়েছিলেন এবং সব নথি দ্রুত তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে আপ্লুত অপূর্ব ও তাঁর পরিবার।
  • Link to this news (আজকাল)