• সরস্বতী বন্দনায় উজ্জ্বল সম্প্রীতির ছবি
    আনন্দবাজার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • বাগ্‌দেবীর আরাধনায় ধরা পড়ল সম্প্রীতির প্রাণবন্ত ছবি। কোচবিহারের একাধিক স্কুলে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেছে। ওদের কেউ সাজিয়েছে মণ্ডপ সাজসজ্জা। কেউ দায়িত্ব নিয়েছে আলপনার। কেউ আবার পুজোর কেনাকাটা, প্রতিমা আনার দায়িত্ব। দীপশিখা রায়, হৈমন্তী রায়, রুমি পারভিন, রেজিনা বেগমেরা হাতে হাত মিলিয়ে প্রস্তুত বিদ্যার দেবীর আবাহনে।

    কোচবিহারের পুন্ডিবাড়ি জিডিএল গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণিতে পড়ে রুমি পারভিন। তার কথায়, “আমরা সবাই মিলেই পুজোর আনন্দে মাতছি। সবাই এক সঙ্গে এ জন্য কাজও করছি। অঞ্জলিও দেব।’’ ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী দীপশিখা রায়ের কথায়, “আলপনার কাজে অন্যদের সঙ্গে আমিও যোগ দিয়েছি।’’ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রীতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘প্রস্তুতি সারা। ছাত্রীরা সবাই আপনা হতেই তাতে যোগ দিয়েছে। পরম্পরাগত ভাবে সম্প্রীতির ঐতিহ্য মত বজায় আছে।’’

    কোচবিহার শহরের উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও এক ছবি। স্কুলের ছাত্রী অঙ্কিতা দে, সুজাতা রায়, সুরাইয়া পারভিন, ঐন্দ্রিলা বৈশ্যরা হাতে হাত মিলিয়ে পুজো প্রস্তুতির যাবতীয় কাজ সামলেছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুচিস্মিতা চক্রবর্তী বলেন, “সবাই মিলেমিশে পুজোর আয়োজনে প্রতিবার শামিল হয়। অঞ্জলিও দেয়।’’

    কোচবিহার সদর মহকুমার দেওয়ানহাট হাই স্কুলেও পুজোয় শামিল হয় নানা সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্তকুমার পাল বলেন, ‘‘পুজোর আনন্দে পড়ুয়াদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। সবাই যোগ দিচ্ছে।’’ তুফানগঞ্জের হরিরধাম হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয়কুমার দত্ত বলেন, “সরস্বতী পুজোয় সম্প্রীতির ছবি আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে আমাদের স্কুলে।” কোচবিহারের বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি অভিষেক সিংহ রায় বলেন, ‘‘পুজোর আনন্দে কোনও ভেদাভেদ নেই। পড়ুয়ারা সকলেই শামিল হয়েছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)