• পুর পরিষেবা প্রদান করতে ব্যর্থ, খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর
    আনন্দবাজার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাবেন মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা। বৃহস্পতিবারই চিঠি এসে পৌঁছেছে মহকুমাশাসক সুরভির কাছে। অবিলম্বে তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১৯ ডিসেম্বর পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠায়, শো-কজ় করা হয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভাকে।

    সূত্রের খবর, ৩৫টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট খড়্গপুর পুরসভাতে বর্তমানে ২৪ জনই তৃণমূলের কাউন্সিলর। এর মধ্যে ২০ জন তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। বাকি ৪ জন নির্দল, সিপিএম ও কংগ্রেস মিলিয়ে দু’জন কাউন্সিলর রয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন প্রদীপ সরকার। তার মেয়াদ চলাকালীন মাত্র আট মাসের মধ্যেই দলীয় কাউন্সিলরদের বিক্ষোভের জেরে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণী ঘোষকে। এইবার কল্যাণীর নেতৃত্বাধীন পুর বোর্ডই ভেঙে দেওয়া হল।

    এ ছাড়াও বছর দুয়েক ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ। অবশেষে পুরবোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা তথা পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতা সংক্রান্ত পিটিশন জমা পড়ে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। তার ভিত্তিতেই গত বছর ১৯ ডিসেম্বর রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের শো-কজ় নোটিস এসে পৌঁছোয় পুরসভায়। সেখানে বলা হয়, পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ না করা, আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়া, পর্যাপ্ত আলো না থাকা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে খড়্গপুর পুরসভার বিরুদ্ধে। এর যথাযথ উত্তর দিতে বলা হয় পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে।

    নোটিস পাওয়ার পর, সর্বদল মিটিং ডেকে শো-কজ়ের উত্তরও দেওয়া হয়। যদিও সে বৈঠকে তৃণমূলের দু'জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। এর পরই ২১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিবের চিঠি এসে পৌঁছোয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এ নিয়ে মহকুমাশাসক সুরভির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিদায়ী পুরবোর্ডের চেয়ারপার্সন কল্যাণী বলেন, ‘’শো-কজ়ের উত্তর দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কাজও ঠিকঠাকই চলছিল। তার পরের বিষয় সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না।”

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, “এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে দলীয় ভাবে কোনও মন্তব্য করার অবকাশ নেই। শীর্ষ নেতৃত্ব যে ভাবে বলবেন, সেই মতোই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

    বিজেপি-র জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, “তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা ন‍্যূনতম নাগরিক পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থ! এখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সব নাটক করে কোনও লাভ নেই। মানুষ উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবেন।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)