• যান নিয়ন্ত্রণে অনড় পুলিশ, হাওড়ায় থমকে উড়ালপথ তৈরি
    আনন্দবাজার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ট্র্যাফিক সংক্রান্ত ছাড়পত্র দিতে পুলিশ গড়িমসি করায় কার্যত স্তব্ধ হতে বসেছে হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপরে নির্মীয়মাণ ছ’লেনের উড়ালপথের (এলিভেটেড করিডর) কাজ। যার ফলে বিপাকে পড়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) এবং উড়ালপথ নির্মাণকারী সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)। এনএইচএআই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উড়ালপথের নির্মাণকাজের জন্য যে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা করতে চাইছে না হাওড়া সিটি পুলিশ। পাশাপাশি, সিইএসসি-র ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল সরানোর অনুমতি না মেলায় উড়ালপথের দু’প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে রয়েছে। এনএইচএআই-এর তরফে ওই উড়ালপথ নির্মাণের প্রকল্প অধিকর্তা প্রশান্ত শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘হাওড়া সিটি পুলিশ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না করায় ইতিমধ্যে উড়ালপথ নির্মাণের সময়সীমা ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে। কিন্তু যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে ওই সময়ের মধ্যেও নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে না।’’

    দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনার পরে অবশেষে ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের যানজটের সমস্যা মেটাতে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের এলিভেটেড করিডর তৈরির কাজ শুরু করে এনএইচএআই-এর ঠিকাদার সংস্থা আরভিএনএল। বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজ়ার দিকে ফুটবল গেট থেকে শুরু হয়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন খেজুরতলা পর্যন্ত যাওয়ার কথা এই উড়ালপথের। প্রথম দিকে কাজ দ্রুত গতিতে চললেও গত দুর্গাপুজোর পর থেকে শুরুর দিকের দেড় কিলোমিটার অংশের কাজ এবং শেষ প্রান্তের দু’কিলোমিটার অংশের কাজে হাত দিতে পারছে না আরভিএনএল। সেই কারণে মাঝের চার কিলোমিটার অংশের কাজ ছাড়া বাকি অংশের কাজ এগোতে পারছে না ওই সংস্থা।

    আরভিএনএল-এর এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘কাজ করার জন্য ট্র্যাফিক পুলিশ ছাড়পত্র না দেওয়ায় অধিকাংশ সময়েই কাজ বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। যে কারণে আমরা কাজ শেষ করার সময়সীমা এনএইচএআই কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ করেছি। কিন্তু বর্তমানে বাকসাড়া মোড় থেকে ফুটবল গেট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার অংশে কাজ করার জন্য পুলিশ ট্র্যাফিক আটকানোর অনুমতি না দেওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে ৩৭ নম্বর স্তম্ভের পরে আর এগোনো যায়নি।’’ আরভিএনএল-এর আশঙ্কা, এই কাজ ২০২৭ সালেও শেষ করা যাবে না। এনএইচএআই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রতিদিন আরভিএনএল-কে ৪৪ লক্ষ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে।

    এনএইচএআই-এর এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার জানালেন, উড়ালপথের এক-একটি স্তম্ভ তৈরির জন্য সেটির চার দিকে প্রায় আট মিটার জায়গা লাগে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে যে হেতু জমি কম, সে হেতু রাস্তা অনেকটাই সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। তাই যানবাহনের গতিও স্বাভাবিক ভাবেই কমে যায়। এই সব কথা চিন্তা করেই হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশকে তিনটি বিকল্প পথের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সেই রাস্তাগুলি হল, আন্দুল রোড, শৈলেন মান্না সরণি এবং হাওড়া-আমতা রোড। ওই ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘‘আমরা টাকা খরচ করে ওই তিনটি বিকল্প পথ মেরামতও করে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ যানবাহন ওই বিকল্প পথে না পাঠিয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়েই চলতে দিচ্ছে।রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনও কর্তাব্যক্তি কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গেলে নিরাপত্তার কারণে সব কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এমনকি, কাদা ছিটতে পারে বলে সমস্ত যন্ত্রও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’’

    ট্র্যাফিক ব্লক এবং বিদ্যুতের কেব্‌ল সরানো নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘গত সোমবারও ওই সংস্থার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উড়ালপথের কাজের জন্য এমনিতেই কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে কিছুটা করে অংশের কাজ করতে হবে। ঘন ঘন ট্র্যাফিক ব্লক করে কাজ করা যাবে না।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)