• ইন্ডিগো মামলায় বরখাস্ত সিনিয়র ভিপি: আদালতে তথ্য DGCA-র
    এই সময় | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ডিসেম্বরের গোড়ায় ইন্ডিগোর চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিলের পিছনে পরিকল্পনার স্পষ্ট অভাব ছিল। সেই যুক্তিকে সামনে রেখে সংস্থার এক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টে এই তথ্য জানিয়েছেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)–এর আইনজীবী।

    এ ছাড়াও সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার ইসিদ্রে পোরকেরা ওরেয়া–সহ ছয় সিনিয়র এগজ়িকিউটিভকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও এ দিন আদালতে ডিজিসিএ–র আইনজীবী জানিয়েছেন। তার মধ্যে সংস্থার ফ্লাইট অপারেশনের ডেপুটি হেডও রয়েছেন। তবে যে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে, তাঁর নাম সামনে আনা হয়নি।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারেই ইন্ডিগোর ত্রৈমাসিক মুনাফা ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে সামনে এসেছে এবং সেই কারণে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে। আর এ সবই ডিসেম্বরের ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    তাঁদের আরও বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন, নয়তো ক্লান্তির জন্য দেশের আকাশে যে কোনও দিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে — বহুদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন দেশের পাইলটেরা। সেই দাবি মেনে, ২০২৫–এ পাইলট ও কেবিন ক্রু–দের ডিউটি সংক্রান্ত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল)–এর পরিবর্তন আনে ডিজিসিএ। গত নভেম্বরের গোড়ায় তা চালুও হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপরেই ডিসেম্বরের গোড়া থেকে ইন্ডিগোর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে শুরু করে। শুধু ৫ ডিসেম্বর এক হাজারের কাছাকাছি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পরে কেন্দ্র নতুন এফডিটিএল স্থগিত করে ইন্ডিগোতে দু’মাস সময় দেয়। ততদিনে হাজার হাজার যাত্রীর যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার আদালতে ডিজিসিএ–র পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৫০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৮৫২টি ফ্লাইট দেরিতে ওড়ে। যার জন্য দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েন প্রায় তিন লক্ষ যাত্রী। নভেম্বরে চালু হওয়া নিয়মের জন্য শুধু ইন্ডিগোর এত ফ্লাইট বাতিল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে এবং কেন্দ্রের নির্দেশে ডিজিসিএ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। দিল্লি হাইকোর্টে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। ডিজিসিএ–র রিপোর্ট তলব করে হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্টই জমা পড়েছে আদালতে। যেখানে ফ্লাইট বিপর্যয়ের পিছনে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানো, এক মাসের মধ্যে সমস্ত বিমান, পাইলট, কেবিন ক্রু–দের ব্যবহার করে ফেলা, নিয়ন্ত্রক (ডিজিসিএ)–এর নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব, সঠিক সফটওয়্যার সাপোর্টের অভাব এবং পরিচালনার ঘাটতিকে দায়ী করা হয়েছে। আদালতে জানানো হয়েছে, এ কারণে ইন্ডিগোকে ২২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে। সংস্থার সিইও–কে শো–কজ়ও করা হয়েছে।

    পাশাপাশি, অবিলম্বে এই সমস্ত ঘাটতি পূরণ করতে বলা হয়েছে এয়ারলাইন্সকে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে, ততদিন ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার আবার শুনানি হবে।

  • Link to this news (এই সময়)