উত্তরপ্রদেশে ফের এনকাউন্টার। এক কিশোরকে অপহরণ করে মু্ক্তিপণ চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু টাকা না পেয়ে তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরেই শুরু হয় এনকাউন্টার। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মূল অভিযুক্তে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর প্রতিবাদে ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরগড় বাজারে কাপড়ের দোকান রয়েছে অশোক কুমার কেশরওয়ানির। তাঁর ছেলে আয়ুষকেই অপহরণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে টিউশন পড়তে বেরিয়েছিল আয়ুষ। তার পরে আর ফেরেনি। বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুজি করেন বাড়ির লোকজন। প্রাইভেট টিউটরের বাড়িতেও যান তাঁরা। কিন্তু জানা যায় আয়ুষ পড়তেই যায়নি। রাত ৯টা নাগাদ অপহরণকারীরা ফোন করে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায়।
সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে FIR দায়ের করেন অশোক। আয়ুষের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়ুষকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এ দিন ভোর চারটে নাগাদ বাড়ির সামনে একটি ঝোপের মধ্যে থেকে আয়ুষের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।
অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশিতে নেমে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে এক অভিযুক্ত পুলিশের উপরে হামলার চেষ্টা করে অভিযোগ। তখনই আত্মরক্ষায় গুলি চালায় পুলিশ। মূল অভিযুক্ত কাল্লুর শরীরে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই কাল্লুর মৃত্যু হয়। অন্য অভিযুক্ত ইরফানের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। পলাতক অন্য এক দুষ্কৃতী। তিন জনই প্রয়াগরাজের কর্মা এলাকার বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, অপরাধ-জনরোষ-গ্রেপ্তার-এনকাউন্টার। যোগী আদিত্যনাথের জমানায় ‘বিচারে’র এই ধারা শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশ। বিরোধীদের অভিযোগ এমনই। অপরাধ করলে সোজা যমরাজের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যোগী নিজেও। তার পর থেকে গত ৮ বছরে লাগাতার এনকাউন্টার হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-এ ৪৮ জনের মৃত্যু হয় এনকাউন্টারে। নতুন বছরেও সেই ধারা বজায় থাকল।