হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এক যুবক। অভিযোগ, তাঁর একটা পা কেটে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এখন কী হবে? কী করে ডাক্তারি পড়বেন তিনি? বেডের সামনে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে বাড়ির লোকজন। গম্ভীর মুখে হাজির পুলিশও। যুবকের বয়ান নথিভুক্ত করতে শুরু করলেন তাঁরা। তার পরেই কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল কেউটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ ভাবে সক্ষম কোটায় ডাক্তারিতে ভর্তি হবেন বলে নিজেই নিজের পায়ের কেটে আঙুল ফেলেন যুবক। বাকিটা নাটক। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবকের নাম সুরজ ভাস্কর। বয়স ২৪। জৌনপুরের বাড়ি তাঁর। বাবা মারা গিয়েছেন আগেই। বাড়িতে মা, দাদা আর এক বোনের সঙ্গে থাকেন তিনি। সুরজ ডি ফার্মা পাশ করেছেন। গত তিন বছর ধরে MBBS-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে পারছেন না। গত ১৮ জানুয়ারি নিজের বাড়িতেই ছিলেন তিনি। রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমোতে যান। পর দিন সকালে তাঁর বাঁ পা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরে স্থানান্তর করা হয় পার্থ হাসপাতালে - অন্তত এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সুরজ কাঁদতে কাঁদতে দাবি করেন, রাতে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ে দুষ্কৃতীরা হামলা করে। বেদম মারের চোটে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। যখন জ্ঞান ফেরে, দেখেন, দুষ্কৃতীরা তাঁর বাঁ পা কেটে নিয়েছে। এর পরেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুরজের বাড়ির সামনে যাদবদের বস্তি রয়েছে। ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য তাঁরা হুমকি দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রকারন্তরে তাঁদের ঘাড়েই দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন সুরজ।
ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথমেই তারা যায় সুরজের বাড়ি। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে সিরিঞ্জ, অ্যানাস্থেশিয়া ভর্তি শিশি এবং একটি করাত উদ্ধার হয়। অবাক হয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধার হয় একটি ডায়রিও। তাতে লেখা ছিল, ‘২০২৬-এর মধ্যে যে করেই হোক ডাক্তারিতে ভর্তি হতেই হবে।’ এর পরেই দু’য়ে দু’য়ে চার করতে শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আর সন্দেহভাজনদের জেরা করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়ে যান, ঘটনা সুরজই ঘটিয়েছেন, এর সঙ্গে আর তৃতীয় কেউ জড়িত নন।
হাসপাতালে গিয়ে সুরজকে চেপে ধরেন তদন্তকারীরা। শুরু হয় আর একপ্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদ। তখনই তিনি গড়গড় করে সব স্বীকার করে ফেলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডি ফার্মা পাশ করার কারণে চিকিৎসার প্রাথমিক জ্ঞান তাঁর ছিলই। সেটাকে কাজে লাগিয়েই, বাঁ পায়ের চারটি আঙুল কেটে ফেলেছিলে সুরজ। শুধু বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠটি অক্ষত থাকে। এর একটাই কারণ, প্রতিবন্ধী কোটায় যাতে ডাক্তারিতে সুযোগ পাওয়া যায়।
বান্ধবীর সঙ্গেও পা কাটা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন সুরজ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে সুরজের। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছে পুলিশ।