BJP-র টিকিটে মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই চন্দ্র বসু এখন মমতাকে 'দেশনেত্রী' চাইছেন
আজ তক | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
রাজ্যের পাশাপাশি দেশের নেত্রী হিসেবেও এগিয়ে আসুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই চাইছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। একটা সময়ে BJP-র লোকসভার প্রার্থী বসু পরিবারের এই সদস্যকে শুক্রবার দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে চন্দ্র বসু এদিন বলেন, 'নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজে যে ৬০ হাজার সেনা ছিলেন, তাঁরা কেউ মুসলিম, হিন্দু, শিখ ছিলেন না। ছিলেন ভারতীয়। আজকের প্রজন্মকে বুঝতে হবে নেতাজির এই ভারতীয় কনসেপ্ট। সাম্প্রদায়িক ও বিভাজনের রাজনীতি আজ ভারতে ছেয়ে গিয়েছে। যদি আমরা নেতাজিকে শ্রদ্ধা করি তাহলে একটি মূর্তিতে মাল্যদান করে কিংবা সংগ্রহশালা করে দিলেই হবে না। নেতাজির আদর্শকে ভারতের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং তাঁর সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের আদর্শকে আজকের প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।'
এরপরই চন্দ্র বসু বলেন, 'আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করছি কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, ভারতের নেত্রী হিসেবে আপনি এগিয়ে আসুন। নেতাজির আদর্শই একমাত্র ভারতকে রক্ষা করার পথ। ভারত আবার ভেঙে যাবে নাহলে। ১৯৪৭ সালে কিছু নেতারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। বাংলা বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাকে আর বিভক্ত হতে আমরা দেব না। বিভাজনের রাজনীতি যারা করেন, তাদের পরাজিত করার সময় এসেছে।'
সুভাষচন্দ্র বসুর মেজদাদা শরৎচন্দ্র বসুর ছেলে অমিয়নাথ বসুর পুত্র চন্দ্র বসু। ২০১৬ সালের তিনি BJP-তে যোগদান করেছিলেন। দলটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সহ সভাতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনেও BJP-র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে। তবে পরাজিত হতে হয় দু'বারই। এরপরই মোহভঙ্গ হয় চন্দ্র বসুর। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি BJP থেকে পদত্যাগ করেন।