নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভিন রাজ্য থেকে বাড়িতে আসে সাইবার প্রতারণার আইনি নোটিস। বলা হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে থানায় হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চিঠি দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় অশোকনগরের রাজবেড়িয়ার যুবক মনিরুল গোলদারকে (৩৭)। শেষমেশ আতঙ্ক আর অবসাদের কারণে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন তিনি। পেশায় তিনি ছিলেন মধু ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের মেঘ দেখছেন কেউ কেউ।সাইবার পুলিশের দাবি, মৃত যুবক পুনে সাইবার পুলিশের সন্দেহভাজনদের তালিকায় ছিলেন। তাই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। আর্থিক নয়ছয় কেন্দ্রিক কোনও ঘটনায় তাঁর মোবাইল নম্বরের যোগ পেয়েছে তারা। তবে, আত্মহত্যার ঘটনা বোকামি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মনিরুলের বাড়িতে একটি নোটিস আসে। তাতে প্রেরক হিসেবে উল্লেখ ছিল মহারাষ্ট্রের পুনে সিটি সাইবার থানার নাম। নোটিসের নীচে ছিল স্বপ্নালি সিন্ধে নামে পুনে সাইবার থানার এক ইনসপেক্টরের সিল সহ সই। নোটিসে দাবি করা হয়েছে, মনিরুলের নামে একটি সিম কার্ড তোলা হয়েছে। সেই নম্বর ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ করা হয়েছে। নোটিস হাতে পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ না করলে পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছিল নোটিসে। চিঠি হাতে পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মনিরুল, এমনটাই দাবি পরিবারের। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খাওয়া দাওয়া। পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে এনিয়ে আলোচনাও করেন। অশোকনগর থানার পুলিশ তাঁদের অভয় দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছিল না তাঁর। বৃহস্পতিবার ভোরে মধু সংগ্রহের কাজে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সঙ্গে একটি ব্যাগে জামাকাপড়ও গুছিয়ে নিয়েছিলেন। এদিন সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি আম গাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। অশোকনগর থানার পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।মৃতের মামা আব্দুল হাকিম মণ্ডল বলেন, ওই চিঠি পাওয়ার পর থেকেই মনিরুলের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সব সময় কিছু চিন্তা করত সে। পুলিশের নাম শুনলেই ঘাবড়ে যাচ্ছিল। বলত, কিছু না করেও যদি ফেঁসে যাই। পুলিশ ও আইনজীবীরা তাঁকে অযথা ভয় না পেতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই কথা কানে তোলেনি সে। এভাবে আত্মহত্যা করবে কারও ধারণা ছিল না। এনিয়ে হাবড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ গুপি মজুমদার বলেন, চিঠি পাওয়ার পর থেকেই যুবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মৃতের স্ত্রী খাদিজা বিবি অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নোটিসের উৎস, সত্যতা এবং এর সঙ্গে কোনও প্রতারক চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফাইল চিত্র