সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: কাটোয়ার ভাগীরথীতে ফের জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় ডলফিনের নৃশংস মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের বাবলাডাঙা গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় একটি বাবলাগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি গাঙ্গেয় ডলফিন শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত শাবকের মুখ কেটে টিনের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
বনদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ডলফিনের চর্বি থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস কাজ করা হয়েছে। খবর পেয়ে বনদপ্তর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। জেলা শাসক আয়েশা রানি এই ঘটনায় বনদপ্তরকে পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা জানান, মৃত ডলফিনের ময়নাতদন্ত করা হবে এবং দোষীদের ধরতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হবে। পরিবেশবিদদের মতে, গাঙ্গেয় ডলফিন গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাটোয়া অঞ্চলে সংরক্ষণ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও একের পর এক ডলফিনের মৃত্যু গভীর উদ্বেগের বিষয়। বনদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী গত এক বছরে কাটোয়ায় ৩-৪টি মৃত ডলফিন উদ্ধার হলেও স্থানীয়দের দাবি, নদীতে ভেসে যেতে দেখা গিয়েছে আরও বেশি ডলফিনের দেহ।
এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিমি এলাকা জুড়ে ডলফিনের বিচরণ ক্ষেত্র। কয়েক বছর আগে ঘটা করে কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল রাজ্য বনদপ্তর। ডলফিন নিয়ে গবেষণাও চালাচ্ছে বনদপ্তর। তবুও ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। এই এলাকায় ৩২ থেকে ৩৫টির বেশি গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে। সচেতনতার প্রচার সত্ত্বেও কেন এত গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যু? কেন ঠেকানো যাচ্ছে না গাঙ্গেয় ডলফিনের মৃত্যু? প্রশ্নের মুখে বনদপ্তর৷