• 'সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলে, তাঁকে কি হিয়ারিং-এ ডাকা হত'?
    ২৪ ঘন্টা | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলে, তাঁকে কি হিয়ারিং-এ ডাকা হত'? নেতাজির জন্মদিনে SIR নিয়ে ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, 'দিল্লির চক্রান্ত নগরী এখন। সারাক্ষণ চক্রান্ত করে বেড়ায় বাংলার বিরুদ্ধে'।

    আজ, শুক্রবার তেইশে জানুয়ারি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন।  ধর্মতলায় নেতাজি মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'দেশের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দেশের মণীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে।  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস প্লানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। আজকে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে জেনেবুঝে। কী একটা করেছে, নীতি আয়োগ,খায় না মাথায় দেয়'!

    খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, এখন রাজ্যে SIR শুনানি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে ডেকেছেন। তার আগে ৫৮ লক্ষ বাদ দিয়েছেন একতরফাভাবে। মোট সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি। মনে রাখবেন, ৭ কোটি মানুষের মধ্য়ে যদি ২ কোটি বাদ চলে যায়, কত মানুষ অধিকার হারায়'।

    বিজেপি সাংসদ. 'কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের পালটা কটাক্ষ, এরকম মিথ্যাবাদী মুখ্যমন্ত্রী ভারতবর্ষে হয়েছে কিনা, সন্দেহ। কিছুদিন আগে ওনারই কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারে বিএলও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হল। তার দায় কেন নির্বাচন কমিশন নেবে।  মুখ্যমন্ত্রী নেবেন কি, সেটা বলতে হবে'। তাঁর দাবি, 'পশ্চিমবঙ্গে ৫৮  লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, ২ কোটি নাম বাদ গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। তাহলে শুধু বাংলায় হচ্ছে, এই যে মিথ্য়া কথা বলে যাচ্ছে, এমন মিথ্যাবাদী, দু'কান কাটা মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে কোনওদিনও হয়নি'।

    সুকান্তের সাফ কথা, 'ওনাকে চ্যালেঞ্জ করছি, অন্য় রাজ্য়ে কী হচ্ছে, যেটা পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে, এটা দেখাতে বলুন। বাদবাকী রাজ্যগুলি যেখানে sir হচ্ছে, তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে sir-র কী পার্থক্য আছে, মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্‍সাহস থাকে, তাহলে যেন তুলনামূলক আলোচনা করে দেখান ভারতবর্ষের মানুষকে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে'।

    এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতা বইমেলা। বইমেলার  উদ্বোধনে মঞ্চে SIR প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,  লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি কোনওদিন ছিল না SIR-এ। একমাত্র বাংলায় হচ্ছে, আর কোথাও হচ্ছে না। খসড়া তালিকা বেরনোর পরেও! যারা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, পাননি, যাবেন। দরকার হলে অথারাইড পার্সনকে পাঠাতে পারেন'।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা. SIR চলছে।  একশো দশ জনের মতো মানুষ মারা গিয়েছে। আমরা যেন মানুষের সেই হয়রানি কথাটা মনে রাখি। প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা করে লাইন দিতে হচ্ছে'। তাঁর কথায়, 'ধরুন আমি মমতা ব্যানার্জি, বাংলা লিখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যস বাদ! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ টেগোর, ব্য়াপারটা তাই। চ্যাটার্জী চট্টোপাধ্যায় লেখে, মুখার্জী মুখোপাধ্যায় লেখে। খুব দোষ হয়ে গিয়েছে। একজনকে বলছে, পাঁচজন ছেলেমেয়ের একই বাবা-মা হয় কী করে, কী করে বলি বলুন তো। এখন না হয় হাম দো হামারা দো হোতা হ্যায়, পেহেল তো নেহি থা'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)