আইপ্যাকের দপ্তরে ED-র হানা নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। দিল্লিতেও তার আঁচ পড়েছে। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। একটি ফোন নিয়েই যত শোরগোল। তবে বৃহস্পতিবার বিচারপতিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইপ্যাকের অন্যতম কর্তা জিতেন্দ্র মেহতার ফোন পরীক্ষা করতে পারবেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, আইপ্যাকের দিল্লি অফিসে তল্লাশির সময়ে ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। আজ, শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ED-র সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছিল জিতেন্দ্র মেহতাকে।
গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার কলকাতার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ED। একটা দল যায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরেও। এই নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তবে শুধু কলকাতায় নয়, দিল্লিতেও আইপ্যাকের দপ্তরে হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময়ে ভোট কুশলী সংস্থার অন্যতম কর্তা জিতেন্দ্র মেহতার একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়।
তার পরেই জিতেন্দ্র যান সুপ্রিম কোর্টে। তিনি দাবি করেন, বাজেয়াপ্ত করা ফোন পরীক্ষা করার কোনও অধিকার নেই তদন্তকারীদের। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর ডিভিশন বেঞ্চের সামনে জিতেন্দ্রর আইনজীবী সিএ সুন্দরম বলেন, ‘ED-র ফোন পরীক্ষা করার কোনও অধিকার নেই। এতে জিতেন্দ্রর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হবে।’ মৌলিক অধিকারের রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বারবার সরব হন জিতেন্দ্রর আইনজীবী।
জবাবে বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় বলে দেয়, ‘একজন নির্দোষ নাগরিককে কী ভাবে রক্ষা করতে হয় আমরা জানি।’ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে মঙ্গলবার। জিতেন্দ্রর আইনজীবী দাবি করেন, সেই দিন পর্যন্ত যেন মোবাইল ফোনে হাত না দেন ইডি আধিকারিকরা, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক। এমন কথায় অবাক হয়ে যান বিচারপতিরা। তাঁরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন?’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য জিতেন্দ্রর আইনজীবীর দাবি খারিজ হয়ে যায়। তদন্তকারীরা তাঁর ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতিরা।
উল্লেখ্য, ৮ জানুয়ারির তল্লাশিতে দিল্লির আইপ্যাকের অফিস থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করলেও, কলকাতায় তা করতে পারেনি। দিল্লিতে আর্থিক প্রতারণা মামলায় আইপ্যাকের কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ওই দিন সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তরেও হানা দিয়েছিল ED। আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতেও শুরু হয়েছিল তল্লাশি। সেখানে আচমকাই হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখান থেকে একটি সবুজ রংয়ের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।