রাতারাতি উধাও গোটা লোহার সেতু। রাতেও ওই সেতু দেখেছিলেন এলাকার লোকজন। সকাল হতেই হতবাক তাঁরা। কারণ, চুরি হয়ে গিয়েছে প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ লোহার সেতু। ওই সেতুর ওজন ছিল প্রায় ৩০ টন। চোরদের এই কীর্তিতে অবাক হয়েছে পুলিশও। ছত্তিসগড়ের কোরবা জেলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই চুরির ঘটনা ঘটেছে কোরবার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রায় ৪০ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি খালের উপর তৈরি করা হয়েছিল ওই সেতুটি। রেলপথে যেমন লোহার পাত দিয়ে সেতু তৈরি হয়, তেমনই করা হয়েছিল সেটি। জানা গিয়েছে, ওই সেতুর নীচের অংশে ছিল লোহার মোটা পাত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সেতু তৈরি করতে হলে বর্তমানে খরচ হবে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিকল্পিত ভাবেই এই সেতুর লোহা চুরি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গ্যাস কাটার দিয়ে ওই সেতুর লোহা কাটা হয়েছে। খালের দু’প্রান্তে গ্যাস কাটার দিয়ে কাটার চিহ্নও দেখা গিয়েছে। শুধু মাত্র ওই লোহার সেতু নয়, সেখানে থাকা জলের পাইপ লাইনের ৪০ ফুট দীর্ঘ লোহার অংশ কেটে নিয়েয়েছে চোরের দল।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন চুরির ঘটনা আগে কখনও হয়নি। রাত ১১টাতেও ওই সেতু পার হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সকালে উঠে দেখেন রাতারাতি তা উধাও হয়ে গিয়েছে।
ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লক্ষ্মণ শ্রীবাস জানিয়েছেন, প্রায় ৫ ফুট চওড়া ছিল ওই সেতুটি। এই সেতুর লোহা চুরি যাওয়ার ফলে যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই চুরির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছাঁট লোহা কারবারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় দুই ডিলারের বাড়িতেও হানা দেয় তারা। তবে এখনও পর্যন্ত না ওই চুরি যাওয়া লোহা এবং চোরের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে তল্লাশি চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্ত দল (SIT)-ও।